ডেস্ক রিপোর্ট
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: ৩০ অক্টোবর ঢাকায় সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের কেন্দ্রীয় সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ।
আজ ১৩ অক্টোবর ২০২৬ বাসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভায় এই আহ্বান জানান।
জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বেলাল চৌধুরী, সদস্য মঞ্জুর আলম মিঠু, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, স্যোসালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।
সভায় সরকারের জাতীয় স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের করা দাসত্বের বাণিজ্য চুক্তি বর্তমান সরকার জনমত উপেক্ষা করে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী জাতীয় সংসদে আলোচনা না করেই বাস্তাবায়ন করে চলেছে। ইতিমধ্যে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২৫টি বোয়িং বিমান ক্রয় চুক্তি করেছে, জ্বালানি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এবং বেশি দামে গম ক্রয় করছে। বেশি দামে এলএনজি, তুলা, মাছ, মাংসসহ কৃষি পণ্য আমদানি করতে হবে। এতে করে কৃষি ধ্বংস হবে। প্যাটেন্ট রাইটের রয়ালিটি দিয়ে ঔষধ শিল্প ধ্বংস হবে।
সভার আরেক প্রস্তাবে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল গত ৮ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে ১৫ বছরের কনশেসন চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা দেশের অর্থনীতি শুধু নয়, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকী সৃষ্টি করবে।
সভা থেকে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিকদের আন্দোলনের সাথে পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়।
সভার অপর প্রস্তাবে বলা হয়, ২০০৬ সালে দেশের জনগণ বিশেষ করে ফুলবাড়ীর জনগণ বুকের রক্ত দিয়ে এশিয়া এনার্জির সাথে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি করার চক্রান্ত প্রতিহত করেছিল। বর্তমান সরকার আবার সেই দিনাজপুরের ফূলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
সভা থেকে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলা হয়, যদি অতীত থেকে সরকার শিক্ষা না নেয়, জনমত উপেক্ষা করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি করার অপচেষ্টা চালায় তার পরিণাম সরকারের জন্য ভালো হবে না।
সভা থেকে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, বন্দর ইজারা চুক্তি বাতিল এবং ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে দেশের সম্পদ বিদেশিদের কাছে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ সফল করে সরকারকে দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করার জন্য সকল দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
সভা থেকে ৩০ অক্টোবরের সমাবেশ সফল করতে নিন্মোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়-
(ক) ১৪ অক্টোবর ’২৬ বুধবার, ঢাকা জজকোর্টে প্রচার ও গণ গণসংযোগ; দুপুর ১২ টায় দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনের বটতলায় জমায়েত।
(খ) ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, বায়তুল মোকাররম-গুলিস্তান এলাকায় প্রচার, গণ সংযোগ ও গণতহবিল সংগ্রহ। বিকেল ৪:৩০টায়, জমায়েত সিপিবি অফিস।
(গ) ১৬ অক্টোবর ’২৬, শুক্রবার, ছাত্র সংগঠনসমূহের সাথে মতবিনিময়। বিকেল ৫টায়, সিপিবি অফিস (৭ম তলা)।
(ঘ) ১৭ অক্টোবর ’২৬ গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা। বিকেল ৫টায়, সিপিবি অফিস (৭ম তলা)।
(ঙ) ২৬ অক্টোবর ’২৬, হাইকোর্টে প্রচার ও গণসংযোগ। বেলা ১১.৩০টায়, জমায়েত বাসদ অফিস।