ডেস্ক রিপোর্ট
২৩ জুন ২০২১, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রনয়ন এবং নিরাপদ ব্রেক পদ্ধতি ও গতি নিশ্চত করে ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের দ্রুত লাইসেন্স প্রদান করার দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ২৩ জুন সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদ এর অন্যতম নেতা তানভীর নাঈম। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন, সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ মোঃ ইকবাল, আলী আকবর, মোঃ রিপন, মোঃ ইমন ও আনোয়ার হোসেন।
সমাবেশে বক্তাগন গত ২০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলায়ে সড়ক পরিবহণ টাস্কফোর্স এর সভায় সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধে নেয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অযৌক্তিক, গণবিরোধী ও তুঘলকি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবং এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
বক্তাগন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরে করোনামহামারি ও টানা লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্থ নানা পেশার শ্রমিক এবং কর্মহীন, বেকার ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকের পাশে সরকার ও মালিক শ্রেনী দাড়ায়নি। করোনার মহামারিতে নতুন করে আরো ২.৫ কোটি মানুষসহ দেশের ৫০ ভাগের উপরে মানুষ যখন দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে, সেই সময়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে কর্মরত ৫০ লাখ রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন চালককে বেকার ও কর্মহীন করার চক্রান্ত চলছে। টাস্কফোর্সের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেন, “দেশের সব জায়গায় আমরা যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারনি।পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান বিকল্প হিসেবে কাজ করছে” তখন কার্যত তিনি এর অপরিহার্যতা স্বীকার করছেন।কিন্ত সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই পরিবহণের সাথে যুক্ত ৫০ লাখ চালক ও তাদের পরিবার পরিজনের জীবন- জীবিকার বিষয়ে কিংবা সারাদেশের অধিকাংশ সাধারন মানুষ যারা এর সুফল ভোগ করছেন তাদের জন্য আপনারা বিকল্প কি ভেবেছেন।
বক্তাগণ আরোও বলেন, টাস্কফোর্সের সভায় ব্যাটারি রিকশার ব্রেক পদ্ধতি বা তার কাঠামোগত দু্র্বলতার কারনে দুর্ঘটনার কারন দেখিয়ে তা রাস্তা থেকে থেকে উচ্ছেদের কথা বলছেন।কিন্ত সেই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটানোর কোন সুপারিশ না করে রাস্তা থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অনেকটা মাথা ব্যথার কারনে মাথা কেটে ফেলার মত।
আজকে ডিজিটাল যুগে এসে ম্যানুয়্যাল প্যাডেল চালিত রিকশায় মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শারিরীক কষ্টকে লাঘব করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।ফলে টাস্কফোর্সের সভায় নেয়া এ সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী।সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বিগত ৮ বছর ধরে নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রনয়ণ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
তিন দফা দাবিতে গত ১৫ মার্চ ঢাকায় সমাবেশ ও সড়ক পরিবহণ মন্ত্রনালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। আন্দোলনের চাপে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দু দফা বৈঠক করে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইকের উপযোগিতা, কাঠামোগত দুর্বলতা নিরসন ও লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করার জন্য বিআরটিএ কে দায়িত্ব দিয়েছে।ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহণ সক্রান্ত সংসদীয় কমিটিও ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইককে রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে।কিন্ত হঠাৎ করে তুঘলকি কায়দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী ও পরিবহণ মালিকদের উপস্থিতিতে টাস্কফোর্সের সভায় এই গনপরিবহণ বন্ধের সিদ্ধান্ত কোন চক্রান্তের অংশ কিনা তা জাতি জানতে চায়।
বক্তাগন সড়ক পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন মেয়রকে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বানেরও তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বক্তাগন অবিলম্বে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চলাচাল বন্ধে নেয়া অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রনয়ন করে ব্যাটারিতালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের লাইসেন্স দ্রুত প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।অন্যথায় সংগ্রাম পরিষদ ৫০ লাখ চালকেরে জীবন-জীবিকা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ৪ দফা দাবিতে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
দাবিসমুহঃ
১. সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অযৌক্তিক, গণবিরোধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার কর। ৫০ লাখ মানুষের আত্মকর্মসংস্থান ও ২.৫ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা কর।
২. নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রনয়ণ করে কাঠামোগত পরিবর্তন করে ব্যাটারিচালিত/বিদ্যুত চালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান কর। প্রকৌশলী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মেকানিকদের নিয়োগ করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের যথোপযুক্ত নকশা এবং নিরাপদ ব্রেক পদ্ধতি নিশ্চিত কর।
৩. বিকল্প ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ছাড়া রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা বা যানবাহন ও ইজিবাইক উচ্ছেদ ও হয়রানি বন্ধ কর।
৪. প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে সরকারের ঘোষনা অনুযায়ি রিকশা, ইজিবাইক সহ স্বল্প গতির এবং লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন, সার্ভিস রোড নির্মাণ কর। পুলিশি হয়রানি, নির্যাতন ও সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ কর
উপরোক্ত দাবিতে নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষনা দেন নেতৃবৃন্দ ।
৪ দফা দাবি আদায়ে আগামী ২৫ জুন থেকে ১০ জুলাই দেশব্যাপী গ্যারেজ বৈঠক, জেলা/ উপজেলা ও বিভাগীয় শহরে সংহতি সমাবেশ, বিক্ষোভ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ১০ জুন সকাল ১১ টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ এবং সমাবেশ থেকে ও জেলায় জেলায় ডিসি অফিসের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলায় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে।
আগামী ১০ জুলাই’র পরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্যাটারিচালিত/বিদ্যুতায়িত যানবাহন এর জন্য নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের কাঠামোগত পরিবর্তন বিষয়ে প্রকৌশলী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মেকানিক, চালক ও যাত্রীদের সমন্বয়ে গোল টেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।