ডেস্ক রিপোর্ট
১৫ জুন ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের অপ্রত্যাশিত নায়ক বনে গেছেন আমাদ দিয়ালো। বদলি নেমে ম্যাচের একমাত্র গোল করেছেন তিনি। তবে তার এই জয়সূচক গোলের পেছনে লুকিয়ে আছে মানব পাচার ও ট্র্যাজেডির নির্মম ইতিহাস। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই উইঙ্গার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করে দলের ১-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। তাতে গ্রুপ ‘ই’-এর প্রথম ম্যাচে সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দল ইকুয়েডরকে পয়েন্ট ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয়।
আইভরি কোস্টের জাতীয় দলের বর্তমান তারকা দিয়ালো ২০১৫ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে ইতালিতে পাড়ি জমান। না, ফুটবল খেলার বাসনা থেকে সেখানে যাননি। সে সময় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অভিবাসনের যে তীব্র জোয়ার তৈরি হয়েছিল, তারই মাঝে আইভরি কোস্টের একটি পাচারকারী চক্র ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে আফ্রিকান শিশুদের ইউরোপে পাচার করত। দিয়ালোকেও সেই চক্র ইতালিতে নিয়ে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে এই অবৈধ চক্রটির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রটি দিয়ালোসহ আরও বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকে অবৈধভাবে ইতালিতে নিয়ে এসেছিল।
ইউরোপে পৌঁছানোর পর এই স্ট্রাইকারকে সম্পূর্ণ একটি ভুয়া পরিচয় দেওয়া হয়েছিল এবং নথিপত্রে এমন কিছু মানুষকে তার বাবা-মা হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যাদের তিনি চেনেনই না। এমনকি বর্তমানে অলিম্পিক দে মার্শেইতে খেলা ফুটবলার হামেদ জুনিয়র ত্রাওরেকেও কাগজপত্রে তার ভাই হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও কয়েক বছর পর প্রমাণিত হয় যে তাদের মধ্যে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। চারপাশে কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার আগেই এই অবুঝ শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
দিয়ালোর ব্যক্তিগত জীবন আরও একটি নির্মম বাস্তবতায় ঢাকা, তিনি কখনোই জানতে পারেননি তার আসল বা জন্মদাতা বাবা-মা কারা। এত বড় মানসিক ধাক্কা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও এই উইঙ্গার তার জন্মভূমি আইভরি কোস্টের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। আর গত শনিবার তিনি নিজের দেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে অন্যতম সেরা এক আনন্দের মুহূর্ত উপহার দিলেন।
দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের জাদুকরী গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে আইভরি কোস্ট। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল আফ্রিকান দেশটি। তাদের পরবর্তী ম্যাচ শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের এমন হতাশাজনক শুরুর পর ইকুয়েডর চাইবে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে।