ডেস্ক রিপোর্ট

১২ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবি জানিয়েছে বিটিইউএস

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১২, ২০২৩ ১০:০৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: ঘোষিত সাড়ে ১২ হাজার টাকার মজুরি প্রত্যাখ্যান করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন অব্যাহত রাখলে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও মালিকের ভাড়াটে সন্ত্রাসী দ্বারা শ্রমিক হত্যার ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়াও আন্দোলন দমনে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা করে শ্রমিকদের উপর হামলা ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ-বিটিইউএস’র নেতৃবৃন্দ।

ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস এক যুক্ত বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপর হামলা-মামলা ও হয়রানি বন্ধ করে শ্রমিক হত্যায় জড়িত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মজুরি প্রদান করার আহবান জানিয়েছেন। এ প্রেেিত শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ, হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপর হামলা-মামলা বন্ধ ও বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মজুরি প্রদানের দাবিতে আগামি ১৪ নভেম্বর ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের দেশব্যাপী বিােভ কর্মসূচীর আহবান জানিয়েছেন নেতৃদ্বয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। ২০১৮ সালে গার্মেন্টস সেক্টরের মজুরির ঘোষণার সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য কয়েকগুণ বেড়েছে। এছাড়া গত ৪৬ বছরের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে। ২০১৮ সালে ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৩ টাকা ৯০ পয়সা। তখন নিম্নতম মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা, যা তখনকার বিনিময় হারের হিসাবে ৯৫ ডলার ৩৫ সেন্ট। কিন্তু পরবর্তীতে ডলারের দাম আরো বেড়ে যেয়ে টাকার দরপতন ঘটলে বিনিময় হার হিসেবে বাড়তি টাকা শ্রমিকদের প্রদান করা হয় নি। দেশের প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিকের প্রাপ্য এই টাকা গার্মেন্টস মালিকরা আত্মসাৎ করে। শ্রমিকদের পাওনা এসব টাকাসহ দেশের মূল্যস্ফীতি, মুদ্রাস্ফীতি আমলে না নিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণা করা হয়। বর্তমান খুচরা বাজারে ডলারের দাম ১২৭ টাকা হয়েছে। সে হিসেবে ঘোষিত মজুরি দাঁড়ায় মাত্র ৯৮ ডলারে। অথচ একই বায়াররা অন্যান্য যেসব দেশে ব্যবসা করে যেমন আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে পোশাক শ্রমিকের বর্তমান নিম্নতম মজুরি ১৭১ মার্কিন ডলার। এছাড়াও চীনে ৩০৩, কম্বোডিয়ায় ২০০, ইন্দোনেশিয়ায় ২৪২, ভিয়েতনামে ১৭০ ডলার মজুরি প্রদান করা হচ্ছে। গত ১০ বছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি ১৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য সরকার জনগণের পকেট কেটে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সুযোগ-সুবিধা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পখাতকে যেখানে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত করপোরেট কর দিতে হয়, সেখানে পোশাক কারখানার জন্য এই করের হার মাত্র ১০-১২ শতাংশ।

এর বাইরে এই শিল্পের জন্য নগদ সহায়তা, মূসক অব্যাহতি, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়া এবং শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা সরকার প্রদান করছে। তারপরও এই পোশাক খাতের শ্রমিকরা বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বাঁচারমতো একটা মজুরির কারণে জানবাজি রেখে আন্দোলন করতে হচ্ছে। শ্রমিকদের আজ রাস্তায় নামার ত্রে মালিকরাই তৈরি করছে বলে নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে অভিযোগ করেন।
নেতৃদ্বয় বলেন, কর্মত্রে বন্ধ রেখে আন্দোলন করার মত পরিস্থিতি কোন শ্রমিকই প্রত্যাশা করেন না। অথচ শ্রমিকরা তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া প্রহসনের মজুরি প্রত্যাখ্যান করার কারণে মালিকরা আইনের ১৩/১ ধারার অপপ্রয়োগ করে কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে। আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে বলে সরকার ও মালিকরা শ্রমিক নেতাদের অভিযুক্ত করছে। অথচ সরকারই বলছে পোশাক খাত নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতায় আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। এর পিছনে কাজ করছে একদিকে মার্কিনের নেতৃত্বে পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি এবং অন্যদিকে চীন-রাশিয়া। সাথে স্বীয় স্বার্থ ও পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছে নয়া-ঔপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। এরকম অবস্থায় বিদেশী পুঁজি তথা পশ্চিমা লগ্নিপুঁজির উপর নির্ভর গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত একটি বৃহৎ সংঘবদ্ধ জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন মহল স্ব-স্ব স্বার্থে ব্যবহার করার দিক থাকছে। গার্মেন্টস সেক্টরে পশ্চিমা বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর মদতপুষ্ট বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও এনজিও সংস্থা গার্মেন্টস সেক্টরে ক্রিয়াশীল রয়েছে। তারা তাদের স্বার্থ রক্ষা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যও তৎপর রয়েছে। দ্রব্যমুল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি, কারখানায় শ্রমিকদের উপর সীমাহীন নির্যাতন এবং নির্বাচনী ঢামাঢোলের আগে মজুরি নির্ধারণ না করে মজুরি নিয়ে বিভিন্ন টালবাহানার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভুত হতে থাকে। তার মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার টাকার মজুরি ঘোষণার প্রস্তাব আগুনে ঘি ঢালার মত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

আগামী ১৪ নভেম্বর ফেডারেশনের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকাল ১০ টায় ফেডারেশনের ঢাকার গুলিস্তান কার্যালয়ে জমায়েত হয়ে কেন্দ্রীয় বিােভ মিছিল সমাবেশ কর্মসূচী সফল করার জন্য সকল নেতা-কর্মিদের প্রতি নেতৃদ্বয় আহবান জানান।

শেয়ার করুন