ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২:২৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: আগামী ৮ মার্চ ১১২-তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ২৮-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে ্এক প্রস্তুতিমূলক কর্মীসভা অনুষ্টিত হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শহরতলী কালেঙ্গায় অনুষ্ঠিত এই কর্মীসভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক দেলোয়ারা বেগম। সংগঠনের যুগ্ম-আহবায়ক আম্বিয়া বেগমের পরিচালনায় অনুষ্টিত কর্মীসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া। কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন হাসেনা বেগম, আনোয়ারা বেগম, পারভীন আক্তার, সুমি বেগম, আলেছা বেগম, আরিজা বেগম, শেফালি আক্তার, রেহেনা বেগম, বিরুজা বেগম, রেনু বেগম, শ্রমিকনেতা শাহজাহান আলী, রিপন মিয়া, আব্দুল জব্বার প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন, নারী অধিকার, নারীর ক্ষমতায়, নারী উন্নয়ন নিয়ে শাসক-শোষকগোষ্টি নানা রকম গালভরা বুলি শুনালেও দেশের অধিকাংশ নারীরা, বিশেষত শ্রমজীবী নারীগণ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, মজুরি বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। গৃহকর্মে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের নেই কোন মজুরি কাঠামো, তেমনি নেই কর্মের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা। উৎপাদনের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের নেই অধিকার ও মর্যাদা। গার্মেন্টস, চা-বাগান, ফার্মাসিউটিক্যালস, নির্মাণ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি শিল্প সেক্টরে নিয়োজিত নারী শ্রমিকসহ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, অফিস-আদালতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, গৃহকর্মী, গ্রামের কৃষাণী তথা শ্রমজীবী নারীদের হাড় ভাঙ্গা খাটুনি, রক্ত-ঘামঝরা পরিশ্রমে মুনাফার পাহাড় গড়ে দেশের অর্থনীতি চালু রাখলেও নির্মম শোষণের যাতাকলে পিষ্ট এ নারীরা পায় না ন্যায্য ও সমমজুরি। দেশের জনসংখার অর্ধেক নারীর জীবন-জীবিকার সমস্যার সাথে জড়িত।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নারী সমাজ তথা শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সমস্যা-সংকট, শোষণ-লুন্ঠন, দুঃখ-কষ্ট, নিপীড়ন-নির্যাতনের কারণ হচ্ছে প্রচলিত নযা উপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। এর জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিকে উচ্ছেদ করা ছাড়া নারী মুক্তি অর্জিত হতে পারে না। এই সত্যকে আড়াল ও অস্বীকার করে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক-শোষক গোষ্ঠি ও এনজিওরা নারী পুরুষের মধ্যকার বিভক্তি বৃদ্ধি করে চলছে। এর বিরুদ্ধে দাড়িয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজের দায়িত্ব নারী মুক্তির লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক সরকার, রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
কর্মীসভায় এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী ৮ মার্চ ১১২-তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ২৮-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।