ডেস্ক রিপোর্ট

৮ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

বিধিমালা ব্যাটারি চালিত যানবাহনের উচ্ছেদ হিসেবে করা যাবে না: সংগ্রাম পরিষদ

আপডেট টাইম : নভেম্বর ৮, ২০২৬ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: ব্যাটারি চালিত যানবাহন(ই রিকশা) এর বিধিমালায় ৯দফা অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা -ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের মাধ্যমে স্হানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

৮ নভেম্বর রোববার সকাল ১১টায় ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডস্থ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে জমায়েত শেষে শত শত শ্রমিকের বর্ণাঢ্য মিছিল সহকারে সিলেট সিটি পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি প্রণব জ্যোতি পাল এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা সভাপতি আবু জাফর রিকশা, ব্যাটারি রিকশা -ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট জেলা সভাপতি শহিদ আহমদ, মহানগর শাখার সহ-সভাপতি রফিক শেখ, মনজুর আহমদ ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের মধ্যে হোসেন আহমদ, ইউসুফ আলী, মিজান মিয়া, সৈকত আহমদ,সমছু মিয়া, আনিছ মিয়া,আখলাছ উদ্দিন,রণি আহমদ,অজয় রায, কুলাউড়া উপজেলা সভাপতি রুস্তম আলী, তানভীর আহমেদ, নিজাম উদ্দিন প্রমূখ।

সমাবেশ শেষে সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা আবু জাফর, মহানগর শাখার সভাপতি প্রণব জ্যোতি এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা স্মারকলিপি পেশ করেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের অনুপস্থিততে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার ।

স্মারকলিপি উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের এমন কোন জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নেই যেখানে ব্যাটারিচালিত রিক্সা, ইজি বাইক বা ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলে না। এই বাহন একদিকে কর্মসংস্থান অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সহজ বাহনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বারবার এইসব বাহনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে কখনো ডাম্পিং করা, কখনো উচ্ছেদ করা, রিক্সা গ্যারেজ বন্ধ করে দেয়া, গ্রেফতার, হয়রানি করা হয়েছে। আমরা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে রিক্সা শ্রমিকদের উপর নিপীড়ন বন্ধ করা সহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য নীতিমালা প্রনয়ন, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স, রুট পারমিট চালু করাসহ ১০ দফা দাবিতে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম রিক্সা উচ্ছেদ নয়, আধুনিকায়ন চাই, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে নীতিমালা চাই, চাঁদাবাজি বন্ধ করে যানবাহনের লাইসেন্স দিয়ে চালক ও মালিকদেরকে আইনি সুরক্ষা ও শৃঙ্খলার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ, রিক্সা গুড়িয়ে দেয়া এবং চালকদেরকে হয়রানীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রামে আমাদের নেতৃবৃন্দ কারাবরণ করেছেন, ঢাকা, গাইবান্ধা, দিনাজপুরসহ সারাদেশে মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। আমাদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ইতিপূর্বে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের রায়ে ২০২২ সালের ৪ ও ২৫ এপ্রিল ব্যাটারিচালিত যানবাহন বৈধতার রায় অর্জন করেছিল। আমাদের ১৩ বছর আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে গত ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত ই-রিক্সার জন্য একটি নীতিমালা প্রকাশিত হয়েছে এবং গত ১লা নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।৬০ লক্ষ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সাথে যুক্ত ৩ কোটি মানুষের এই খাতের জন্য ১৩ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করার পর প্রথমবারের মত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য সরকার কর্তৃক বিধিমালা প্রনয়ন করার সিদ্ধান্তকে সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি। প্রণীত বিধিমালার বেশীরভাগ বিষয়ের সাথে একমত থাকলেও বেশকিছু গুরুতর অসংগতি আছে যা সংশোধন/ পরিবর্তন না করলে এই বিধিমালা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সাথে যুক্ত চালক-মালিকদের জন্য স্বস্তি এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বদলে আশঙ্কা এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। পরিবহণ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এবং সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রণীত বিধিমালা বিষয়ে আমাদের অবস্থান দাবি তুলে ধরছি।

দাবিসমূহঃ
১। বিধিমালার মাধ্যমে শ্রমিককে সুরক্ষা দিতে হবে, রিক্সা উচ্ছেদের হাতিয়ার হিসেবে বিধিমালা ব্যবহার করা যাবেনা, যে সমস্ত রিক্সা চলছে সেগুলোর কাঠামোপরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে ২ বছর সময় দিতে হবে।
২। চালকের লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত কর।
৩। অযৌক্তিক এককালীন নিবন্ধন ফি ও বাৎসরিক নবায়ন ফি কমাতে হবে।
৪। ই-রিক্সার সংখ্যা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় চালকসহ সকল অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৫। বিধিমালায় ই-রিক্সার জন্য মহাসড়কের পাশে সাইডলেন চালু করার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত কর।
৬। সৌর বিদ্যুৎ ব্যবসায়ী বা বীমা ব্যবসায়ীদের কাছে শ্রমিকদের জিম্মি করা যাবে না।
৭। চালকের লাইসেন্স চালু করা এবং লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়ায়, যানবাহনের ফিটনেস ও উৎপাদনের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় BRTAকে যুক্ত কর।
৮। সিটি কর্পোরেশনের বাইরে সারা দেশকে বিধিমালার মধ্যে স্পষ্ট করে অন্তর্ভুক্ত কর।
৯। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ না করে প্রকৃত চালক-মালিকের লাইসেন্স প্রাপ্তি নিশ্চিত কর।

আমরা আশা করি বিধিমালায় যেসব দুর্বলতা আছে তা সংশোধন করে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান, ৩ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা, ব্যাটারি রিকশার সাথে যুক্ত প্রায় ৪১টি খাতের কথা বিবেচনা করা হবে। শ্রমজীবীদের জীবন ও জীবিকার স্বার্থে অতীতের মতই আমরা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে প্রস্তুত আছি। বিশ্ব পরিস্থিতি, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং রিক্সা চালক, মালিক যাত্রীর কথা বিবেচনা করে আমাদের প্রস্তাব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

শেয়ার করুন