ডেস্ক রিপোর্ট
১৫ নভেম্বর ২০২১, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক ও রিকশা, ভ্যান চালক সংগ্রাম পরিষদ শ্যামপুর – কদমতলী থানা শাখার উদ্যোগে আজ ১৫ নভেম্বর ২০২১ সকাল ১১ টায় জুরাইন রেলগেইট বিক্রমপুর প্লাজার সামনে ব্যাটারিচালিত যানবাহন আধুনিকায়ন করে লাইসেন্স প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত প্রধান সড়ক বাদে বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক, ডাম্পিং ও রেকারিং, ভেংগে দেওয়া, হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিতে কদমতলীতে মানববন্ধন সমাবেশ ও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বারবার স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের শ্যামপুর-কদমতলী শাখার আহ্বায়ক জালাল হোসেন।সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন, সংগ্রাম পরিষদ থানা শাখার উপদেষ্টা আফজাল হোসেন, এস এম কাদির, থানার যুগ্ম আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ, সদস্য্য সচিব দাউদ আলী মামুন, উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান, আব্দুল জলিল, শেখ সোলায়মান।
সমাবেশে বক্তাগন বলেন, সারাদেশে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক ব্যাটারিচালিত রিক্সা, ইজিবাইক ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে এবং এটা সাধারণ মানুষের একমাত্র বাহন। এই সব রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইক যাত্রী পরিবহণ, পণ্য পরিবহণ এমনকি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে দেশের সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎচালিত বলে এই সব বাহন শব্দ দূষণ কিংবা পরিবেশ দূষণ করে না। ছোট ছোট গলিপথে চলাচল করতে পারে এবং ভাড়া কম বলে এই সব বাহন দ্রুত সারা দেশে প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় বাহনে পরিণত হয়েছে। সারাদেশের মত শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায়ও হাজার মানুষ এ পেশার সাথে যুক্ত। এ অন্চলটি শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত।কিন্ত এ অন্চলে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়া শত শত মানুষেরা এ পেশায় যুক্ত হয়েছে। করোনায় যখন কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, রাষ্ট্র যখন সবার কাজ এবং খাদ্য সরবরাহ করতে পারছে না তখন তারা নিজেরা ঋণ করে, স্বউদ্যোগে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করেছে বেকার সমস্যার সমাধান করেছে। তখন এ থানার অর্ন্তগত বিভিন্ন রাস্তায় চলাচলরত রিকশা, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক, ডাম্পিং, রেকারিং, ভেংগে দেওয়া ও হয়রানি করা শুধু অন্যায় নয় চূড়ান্ত অমানবিক। বক্তাগন আরোও বলেন, ঢাকা শহরে গণপরিবহন এমনিতেই অপ্রতুল। এ ছাড়াও যেগুলো চলে তা সাধারনত প্রধান রাস্তায় চলে।বিভিন্ন প্রধান সড়ক থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছতে, পাড়া-মহল্লায় ও অলি-গলিতে কোন গণপরিবহন চলে না। সেখানে সাধারণ মানুষের একমাত্র বাহন হচ্ছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক।সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে জনগনের সস্তা, সহজলভ্য বাহন হিসেবে এর নকশা আধুনিকায়ন এবং ব্রেক ও গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে, একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের আধুনিকায়ন করে দ্রুত লাইসেন্স প্রদান করাসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ইতোমধ্যে সংগ্রাম পরিষদের দাবির প্রেক্ষিতে ব্যাটারি চালিত যানবাহন চলাচল নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শত শত পরিববারের রুটি-রুজির এবং শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান পূর্ব পর্যন্ত শ্যামপুর-কদমতলীসহ ঢাকা শহরের প্রধান সড়কবাদে বিভিন্ন এলাকায় চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হবে। অন্যথায় ঢাকাসহ দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ার তোলা হবে বলে সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারন করেন।
মানববন্ধন সমাবেশে শেষে সংগ্রাম পরিষদ শ্যামপুর-কদমতলী শাখার আহ্বায়ক জালাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ ও সদস্য সচিব দাউদ আলী মামুন এর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি টিম ওয়ারি জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এর নিকট দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেন।