ডেস্ক রিপোর্ট
২৪ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ বিরোধী আপোষহীন নেতা, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবু হেনা চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলার উদ্যোগে ২৪ অক্টোবর’২১ রবিবার সকাল ৮ টায় হযরত শাহজালাল (র;)এর দরগাস্থ কবরস্থানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও শপথ গ্রহণ এবং সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কার্যালয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়।
আলোচনাসভার শুরুতে আবু হেনা চৌধুরীর জীবন সংগ্রাম ও সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার সদস্য শুভ আাজাদ শান্ত।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার দফতর সম্পাদক সম্পাদক রমজান আলী পটু পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সহসভাপতি মো. সুরুজ আলী, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার সদস্য বদরুল আজাদ, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আনছার আলী প্রমুখ।
আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, আবু হেনা চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই বাম ধারার প্রগতিশীল রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন এবং ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা শাখার কর্মী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সূত্রপাত ঘটে। তিনি মার্কসবাদের কালজয়ী আদর্শকে তাঁর জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেন। ’৬০ এর দশকে স্বৈরাচার আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে সেন্টো-সিয়াটো জোটে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্তির বিরুদ্ধে সেন্টো-সিয়াটো জোট বিরোধী আন্দোলন, ষাটের দশকের শেষ দিকে মসজিদ আল-আকসাতে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ সাম্রাজ্যবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী প্রত্যেকটি আন্দোলনে আবু হেনা চৌধুরীর সরব উপস্থিতি ছিল।
বক্তারা বলেন, ‘৬০ এর দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মতাদর্শিক প্রশ্ন দেখা দিলে আবু হেনা চৌধুরী সিদ্ধান্ত নিতে কোনো ভুল করেননি। এই আদর্শগত সংগ্রামে আবু হেনা চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং ছাত্র ইউনিয়নের বিপ্লবী ধারার সাথে একাত্ম থাকেন এবং সিলেট জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বৈরাচার আইয়ুব বিরোধী ’৬৯ এর গণআন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সে সময় আবু হেনা চৌধুরী একজন তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। কিন্ত সা¤্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম না হওয়ায় শোষণমুক্ত বাংলাদেশ আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদেশের মানুষের দু:খ কষ্টের মূল কারণ সা¤্রাজ্যবাদী লগ্নি পুঁজির নগ্ন শোষণ, সামন্তবাদী ভূমি ব্যবস্থা এবং তাদের এজেন্ট আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজির নির্মম শোষণ শাসন। সেজন্য এদেশের মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের এজেন্ট আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজির শৃঙ্খল থেকে মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করা। আবু হেনা চৌধুরী আজীবন এ সংগ্রামের পথিকৃৎ ছিলেন। পূর্বের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় আশির দশকে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (ঘউঋ) গঠিত হলে ১৯৮৮ সালে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখা গঠিত হয়। আবু হেনা চৌধুরী প্রথমে আহবায়ক ও পরে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।
বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক ধারাবাহিক সংখ্যালঘু নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সংখ্যালঘুদের সহায় সম্বল, বাড়িঘর ও জায়গা জমি দখল চলছে। শোষক-শাসকগোষ্ঠি তাদের কামেয়ী স্বার্থ হাসিলে সাম্প্রদায়িকতাকে হাতিয়ার করে জনগণের মধ্যে বিভক্তি তৈরির অপতৎপরতায় লিপ্ত। শোষক-শাসকগোষ্ঠি সবসময়ই শোষণ-শাসনকে আড়াল করতে এবং জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত ও বিভক্তি সৃষ্টি করতে সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করে আসছে।
বক্তারা বলেন, আবু হেনা চৌধুরীর স্বপ্ন দেখতেন এদেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ ও আমলা দালালপুঁজিকে উচ্ছেদ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করার। এ লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। আবু হেনা চৌধুরীর এই মতাদর্শ ও আজীবন লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।