ডেস্ক রিপোর্ট

২২ আগস্ট ২০২৪, ১১:০২ অপরাহ্ণ

বন্যা প্লাবিত জেলাসমূহকে উপদ্রুত এলাকা ঘোষণা করার দাবি বাম জোটের

আপডেট টাইম : আগস্ট ২২, ২০২৪ ১১:০২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

ভারতের পানি আগ্রাসন রুখে দাঁড়ান

অধিকার ডেস্ক: বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি’র সভাপতি কমরেড শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা শিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি কমরেড আব্দুল আলী আজ ২২ আগস্ট ২০২৪ সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফেনী, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়িসহ ৯ জেলায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বন্যা কবলিত জেলাসমূহকে উপদ্রুত এলাকা ঘোষণা করে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বানভাসি মানুষকে উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রদানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে নদ-নদীর পানি বাড়ছিল তার উপর উজানে ভারত মহুরী নদীর কলসী বাঁধ এবং গোমতি নদীর ডম্বুর বাঁধ পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই খুলে দেয়ায় প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, গবাদী পশু ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। ১০/১২ ফুট উঁচু হয়ে শহর এবং হাজার হাজার একর ফসলের মাঠসহ অধিকাংশ জায়গা প্লাবিত হওয়ায় মানুষজন বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েও নিরাপদ বোধ করছে না।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উজানের কোন দেশ নদীর উপর দেয়া বাঁধের গেট খুলে দেয়ার ৭২ ঘণ্টা পূর্বে ভাটির দেশকে জানানোর কথা কিন্তু এবারে পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ডম্বুর ও কলসী বাঁধ খুলে দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করেছে। কিন্তু আশ্চার্যের বিষয় যৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশের সদস্যরা এখনও পর্যন্ত ভারতের কাছে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ জানিয়েছে বলে শুনা যায়নি। এর মধ্যদিয়ে বিগত সরকারের মত অন্তর্বর্তী সরকারও সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী ভারত সরকারের প্রতি নতজানু নীতি নিয়ে চলছে কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক নদী আইন লংঘন করে ভারত থেকে আসা ৫৪টি নদীর উপর বাঁধ দিয়ে একতরফা পানি প্রত্যাহার করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে যেমন বঞ্চিত হয়ে মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়ছে তেমনি বর্ষা মৌসুমে বাঁধের গেট খুলে দিয়ে আমাদেরকে ভাসিয়ে মারছে ভারত। ভারতের এই পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দেয়ার দাবি জানাচ্ছে বাম জোট। একই সাথে দেশবাসীকে ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে অবিলম্বে বন্যার্তদের সেনাবাহিনী-নৌবাহিনীকে হেলিকপ্টার, নৌবাহিনী কোস্টগার্ডের বোট দিয়ে উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বাম জোটের নেতাকর্মীসহ সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরকে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও ত্রাণ সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

শেয়ার করুন