ডেস্ক রিপোর্ট
২১ ডিসেম্বর ২০২১, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার পরিপন্থী ছাত্রী হলে বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সিট বাতিলের অগণতান্ত্রিক নিয়ম অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র।
আজ মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর ২০২১) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহলে বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সিট বাতিলের নিয়মের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আবাসিক ছাত্রীদের সিট বন্টন সম্পর্কিত ও অন্যান্য শৃঙ্খলামূলক নিয়মবিধির ১৬নং পয়েন্টে বলা আছে ‘কোন ছাত্রী বিবাহিত হলে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তাঁর সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবেন না’। এমন একটি অগণতান্ত্রিক নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার পরিপন্থী। যুগ যুগ ধরে এই নিয়ম চলে আসছে। সবার জন্য উচ্চশিক্ষা হতে হবে বাধাহীন। বাংলাদেশের নারীসমাজ দীর্ঘদিন ধরে সমঅধিকার ও সমমর্যদা প্রতিষ্ঠার লড়াই করে আসছে। ঘরে বাইরে সর্বত্র যখন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি উঠছে তখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরণের নিয়ম থাকা নারীর প্রতি চরম বৈষম্যমূলক মনোভাবের পরিচায়ক।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে আছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।’ ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরের নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।’ র্অথাৎ দেখা যাচ্ছে সংবধিানরেও ধার ধারছেনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। গত বছরের মার্চ থেকে টানা দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে দেখা গেল ৯ জেলায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ হয়েছে। সারাদেশের তথ্য নিলে এই সংখ্যা প্রায় ৭/৮ গুন হবে। এবারের এসএসসি পরীক্ষার সময় দেখা গেছে অনেক ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা অথবা সন্তান প্রসব করেছে। এদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ বিধান আছে যে বিশেষ ক্ষেত্রে বাবা মা চাইলে ১৮ বছরের নিচে ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিতে পারবে। তাহলে যে দেশে বাল্যবিবাহকে বৈধতা দেয়া আছে সেদেশে নারী সন্তানসম্ভবা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে তার সিট থাকবে না কেন?
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিলের দাবি করেন। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে যে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে উঠবে তাকে কোনভাবেই দমন করা যাবে না।