ডেস্ক রিপোর্ট
৫ নভেম্বর ২০২১, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: দফায় দফায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অতিরিক্ত ভর্তি আবেদন ফি! ইতিমধ্যে ১২০০ টাকা আবেদন ফি জমা দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পরও, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অবৈধভাবে প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি প্রতি অনুষদের জন্য আলাদা ফি আদায় করছে! যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সার্কুলারে দেখা যায় প্রতি অনুষদে আবেদনের ক্ষেত্রে ৬৫০ টা আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে৷ লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে জিম্মি করে এই নির্লজ্জ লুটপাটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল।
আজ শুক্রবার (৫ নভেম্বর, ২০২১) গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে, এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হয়রানি হ্রাস পাবে। অর্থিকভাবে সাশ্রয় হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো! রাষ্ট্রে কর্তৃক শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করার নীতির বাইরে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিও যেতে পারেনি৷ ফলে শুরু থেকেই এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মহড়া চলছে৷ গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরিক্ষার চূড়ান্ত আবেদনের ফি সর্বপ্রথম ৫০০ টাকা নির্ধারণ করলেও পরবর্তীতে ১০০ টাকা বৃদ্ধি করে ৬০০ টাকা করা হয়। নানা অজুহাতে সেই ভর্তি ফি’কেও দ্বিগুণ করে ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে সেই অতিরিক্ত ফি দিয়েও ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে৷ কিন্তু অতীতের সকল লুটপাটের নজীরকে অতিক্রম করে ভর্তি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের উপর পুনরায় আবেদন ফি চাপানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বজনের বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের ট্যাক্সের অর্থে পরিচালিত হয়৷ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কখনো বাণিজ্যের কেন্দ্র হতে পারে না৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত শুধু অনৈতিকই নয় চরম অবিবেচনাপ্রসূত৷ করোনাকালে চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন ফি বাবদ ৩৭ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বাণিজ্য করা হয়৷ তারপরও শিক্ষার্থীদের কাছে অতিরিক্ত ফি আদায় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চরম মুনাফালোভী চরিত্রের নগ্ন প্রকাশ৷ শুধুমাত্র যবিপ্রবিতে প্রতি অনুষদে আবেদনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর ৬৫০ টাকা ব্যয় হলে বিভিন্ন অনুষদে আবেদনের ক্ষেত্রে বিপুল অর্থভার বহন করতে করতে হবে৷ এর বাইরে বাকি ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে সেই অর্থ আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে৷ ফলে শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ সংকুচিত হবে। আবার শিক্ষার্থীদের মেধা ক্রম না থাকায় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে চান্স হবে তার সুনির্দিষ্ট কোন ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়৷ ফলে যারা আবেদনের ক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে পারবে তাদের ভর্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে৷ এই প্রক্রিয়ায় ভর্তিচ্ছুরা চরম আর্থিক বৈষম্যের শিকার হবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অবৈধ আবেদন ফি বাতিল ও মেধাক্রম প্রকাশের দাবী জানান। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এমন অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে উঠবে।