ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ মে ২০২১, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

গাজীপুরে গ্রামীণ আবহে ১২২ তম নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন

আপডেট টাইম : মে ২৮, ২০২১ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: গত ২৫ মে ছিলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২ তম জন্মদিন। তদুপলক্ষে আজ ২৮ মে, শুক্রবার বইপোকা পাঠাগারে গ্রামীণ আবহে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়জন করা হয় চিত্রাঙ্কন,আবৃত্তি, সাধারণ জ্ঞান। অন্য রকম দুটি আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠানে স্থান পায় ভাস্কর কুয়াশা বিন্দুর একক চিত্র প্রদর্শনী ও রগুনাথ প্রামাণিকের কণ্ঠে নজরুল সঙ্গীত সঙ্গে ছিলেন দীনেশ মন্ডল, প্রাণেশ মন্ডল,কনেশ মন্ডল, কুয়াশা বিন্দু, সুবর্ণ কুমার মজুমদার, সুভাস দেব,অপূর্ব কুমার,সন্তোষ চৌহান, হারুন অর রশিদ,রকিবুল,নীল, সাজ্জাদ, ইমন,নাদিম, সাফাত, সিনফা, উত্তম,অঞ্জনা,দিপু,সৃজনসহ আরো অনেকেই।অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার বই।

চিত্র প্রদর্শন

 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ শেষে কবি সুবর্ণ কুমার মজুমদার, কবি মামুন শেখ,নাদিম মোড়ল ও সাজ্জাদ হোসেন কবিতা আবৃত্তি করে শিশুদের উৎসাহ প্রদান করেন। কবি নজরুল ইসলাম যে, আমাদের বাঙালির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সকলের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয় সেই সাথে পাঠাগারটি কেন এমন গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে ওঠেছে তার বর্ণনাও করা হয়।

এছাড়াও বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে সকল অনুষ্ঠানই বর্তমানে শহর কেন্দ্রীক গ্রামকে আজ মানুষ ভুলতেই বসেছেন। গ্রামে নাই কোন সমৃদ্ধ পাঠাগার, সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, যদিও গ্রামই হচ্ছে সকল ধরনের শিল্প সাহিত্যের সূতিকাগার । আজ গ্রামের শিশুরা বই পড়তে চাইলে চলে যেতে হয় শহরে। এতে করে অনেকেই জানেনা কোথায় আছে আমাদের কেন্দ্রীয় পাঠাগার,কীভাবে বই নিতে হয়। সেই সব বই পোকাদের কথা চিন্তা করেই সহজেই যেনো তারা বই সংগ্রহ করতে পারে তাই বইপোকা পাঠাগার ২০১৮ সালে নীলেরপাড়া গ্রামে গড়ে ওঠেছে ছায়াসুনিবির পরিবেশে দুবলাই বিলের পাশে। পাঠাগারের সদস্য হতে হলে লাগে না কোন টাকা খুব সহজেই নিজের নামে একটি বই উপহার দিয়ে আজীবনের জন্য সদস্য পদ লাভ করা যয়। অন্যদিকে শিশু কিশোর মেলা শিশুদের নিয়ে সারা বাংলাদেশে সারা বৎসর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় বইপোকা পাঠাগারে সাথে আয়োজন করে নজরুল জন্মজয়ন্তীর। উক্ত অনুষ্ঠানে গ্রামের প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে সাথে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের প্রায় শতাধিক নর-নারী।

অনেকদিন পরে গ্রামীণ পরিবেশে এমন একটি আয়োজনে গ্রামের প্রত্যেকেই অনেক খুশি কারন বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এমন সহায়ক কার্যক্রম হতে অনেকেই বঞ্চিত হয়ে আসছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে যেন প্রাণ ফিরে পেলো ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। ছুটাছুটি গল্প গুজবে মশগুল ছিলো গোটা পরিবেশ। আকাশে কালো মেঘ, মেঘের আড়ালে সূর্য আবার মাথার ওপর রবির কিরণে এক অন্য রকম পরিবেশে সকাল ৯ টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২ টায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন