ডেস্ক রিপোর্ট
১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের জন্য বিধিমালা প্রনয়ন করার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিধিমালাকে বিদ্যমান গাড়ি উচ্ছেদের হাতিয়ার না করে আদর্শ কাঠামোকে সুনির্দিষ্ট করে বর্তমানে রাস্তায় চলাচলরত গাড়ির কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে ২ বছর সময় দেয়াসহ নিরাপত্তার স্বার্থে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় BRTAকে ও চালকদের লাইসেন্সকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নিবন্ধন-নবায়ন ফি কমানোর দাবি সংগ্রাম পরিষদের ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের জন্য বিধিমালা প্রনয়ন করার সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানিয়ে একইসাথে বিধিমালাকে বিদ্যমান গাড়ি উচ্ছেদের হাতিয়ার না করার আহবান, নিরাপত্তার স্বার্থে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় BRTAকে ও চালকদের লাইসেন্সকে অন্তর্ভুক্ত করা, আদর্শ কাঠামোকে সুনির্দিষ্ট করা ও বর্তমানে রাস্তায় চলাচলরত গাড়ির কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে ২ বছর সময় দেয়াসহ নিবন্ধন-নবায়ন ফি কমানোর দাবি জানিয়েছেন রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন ও সদস্য সচিব ডা.মনীষা চক্রবর্তী।
গত ২৯শে অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত ই-রিক্সার জন্য একটি নীতিমালা প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে আজ ১লা নভেম্বর ২০২৬ এক বিবৃতিতে সংগ্রাম পরিষদ তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৩ সাল থেকে সংগ্রাম পরিষদ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে গাড়ির নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদানসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। ৬০ লক্ষ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সাথে যুক্ত ৩ কোটি মানুষের এই খাতের জন্য ১৩ বছর পর হলেও প্রথমবারের মত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য সরকার একটি আনুষ্ঠানিক বিধিমালা প্রনয়ন করার সিদ্ধান্তকে সংগ্রাম পরিষদ প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানায়। বিধিমালাকে স্বাগত জানালেও বেশ কিছু অসংগতি বা অস্পষ্টতা থাকায় তাতে সংশোধনের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, এই নীতিমালায় সিটি কর্পোরেশনের বাইরে সকল জেলাকে অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে স্পষ্টকরণ না করলে জটিলতা বাড়বে। ই-রিক্সা বুয়েট স্বীকৃত আদর্শ গঠন কাঠামো যুক্ত না হলে চালককে শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ আদর্শ কাঠামো অর্থাৎ “প্রযুক্তিগত মানদন্ড ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আবশ্যকীয় ডিজাইন স্পেসিফিকেশন মোতাবেক কাঠামোগত সংশোধন” বিষয়ে বিধিমালায় সুনির্দিষ্ট করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি ও আদর্শ কাঠামোতে বর্তমান চলাচলকৃত গাড়িগুলিকে রূপান্তরের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
নেতৃবৃন্দ বিধিমালার মধ্য দিয়ে বিদ্যমান যানবাহনকে উচ্ছেদের ঝুঁকিতে না ফেলে কাঠামোগত সংশোধনের জন্য কমপক্ষে ২ বছর সময়সীমা নির্ধারণ করার দাবি জানান। একইসাথে ই-রিকশার আবেদন ফরমে সেই সংশ্লিষ্ট সংশোধনের ধারা সং্যুক্ত করার ও আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন , ২ সিটের ই-রিক্সার জন্য ৮০০০ টাকা এককালীন নিবন্ধন ফি ও বাৎসরিক ৪০০০টাকা নবায়ন ফি এবং ৪ সিটের ই-রিক্সার জন্য ১০’০০০ টাকা এককালীন নিবন্ধন ফি ও বাৎসরিক ৫০০০টাকা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যা অত্যন্ত ব্যায়বহুল।
নেতৃবৃন্দ এই ফি কমানোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন,ব্যাটারিচালিত যানবাহনের প্রধান অংশীদার চালক,অথচ সেই চালকের লাইসেন্স প্রসংগে বিধিমালার ৭ টা অধ্যায়, ২১ টি ধারা ও ৪ টি তফসিলের কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু চালককে বিপজ্জনক চালনা, অতিরিক্ত গতিতে চালানোসহ নানাবিধ কারণে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স নেয়ার সুপারিশ করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে কিন্তু সেখানেও যানবাহন নিয়ন্ত্রনকারী সরকারি সংস্থা BRTAকে এই বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই যানবাহনকে বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বিধিমালার কোন পর্যায়েই BRTA অন্তর্ভুক্ত না হলে যানবাহনের ফিটনেস বা চালকের লাইসেন্স নিশ্চিত করা কঠিন হবে এবং এই ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে একটি নিরাপদ যানে রূপান্তর করা দুরূহ হবে।
চার্জিং স্টেশন বা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিদ্যুৎ সংযোগের বিশেষ মিটার স্থাপন অনুমোদন ও গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্সসহ বেশ কিছু বিষয়ে যে জটিলতা ছিল সে বিষয়েও এই বিধিমালায় স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এ ধরনের আরো বেশ কিছু বিষয় আছে যা বিধিমালাতে আসে নি বা স্পষ্ট হয়নি।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বিধিমালাকে প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানালেও এই বিধিমালাকে যেন কোনভাবেই বিদ্যমান গাড়ি উচ্ছেদের হাতিয়ার না করা হয় সেটা নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানে রাস্তায় চলাচলরত গাড়ির কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে ২ বছর সময় দেয়ার দাবি জানান। একইসাথে নেতৃবৃন্দ নিবন্ধন-নবায়ন ফি কমানোর দাবি করেন এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের অনিয়ম,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ না করে প্রকৃত চালক-মালিকের লাইসেন্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
একইসাথে নেতৃবৃন্দ বিধিমালাকে সিটি কর্পোরেশন বাইরে সারাদেশকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে স্পষ্টিকরণ, গাড়িসহ সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় BRTAকে ও লাইসেন্সের সংজ্ঞায় চালকদের লাইসেন্স নেয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা, আদর্শ কাঠামোকে সুনির্দিষ্ট করার দাবি জানান।