ডেস্ক রিপোর্ট

১৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সম্পত্তিসহ সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবি

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: সম্পত্তিসহ সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। সংগঠনের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান। আজ ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল – বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড জুলফিকার আলী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমরেড রওশন আরা রুশো, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সমাজে নারীর মানবিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ এর নারী সংগঠন হিসেবে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। পরিবার, কর্মক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর শ্রম খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী ছাড়া যেমন পরিবার চিন্তা করা যায় না তেমনি সমাজও চিন্তা করা যায় না। অথচ সমাজের সর্বত্র তো বটেই আমাদের দেশের আইনেও সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় নাই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্পত্তিতে সমঅধিকার না থাকায় নারী যেমন সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি সমাজে ও পরিবারে অধঃস্তন ও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর শিকার হচ্ছে। একদিকে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে ধনী-গরীব বৈষম্য অপরদিকে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে নারী হিসেবে শোষণ অর্থাৎ দ্বৈত শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়। পেশাজীবি, শ্রমজীবি নারীদের অবস্থা আরও করুণ। বেতন বৈষম্য, নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব, পর্যাপ্ত মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ডে কেয়ার সেন্টার না থাকা নারীদের কর্মজীবনকে দুঃসহ করে তুলছে। একজন গৃহিণী নারী সারাদিন ঘরের সকল কাজ করার পরও পরিবারে তার শ্রম এবং অবদান স্বীকৃত হয় না। আবার কর্মজীবি নারী বাইরে পরিশ্রম করে উপার্জন করার পরও ঘরের সকল কাজের দায়িত্ব তাকে পালন করতে হয়।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘দেশের সর্বত্র প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে নারী-শিশু নির্যাতন। শহরের নারীদের জন্য গণপরিবহন খুব প্রয়োজনীয় হলেও তা এখন বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। অথচ কোন নির্যাতনের ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বিচার বা শাস্তি হচ্ছে না বললেই চলে। দেশে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও গণতন্ত্রহীনতায় বদ্ধ জলাশয়ে আবর্জনা জমার মতো সব সংকট যেমন বাড়ছে তেমন নারীর উপর নিপীড়নও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। একটা দেশের উন্নয়ন কখনই অবকাঠামোগত হতে পারে না। মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন, তার নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, নারীর ভয়হীন সুস্থ স্বাভাবিক জীবন হতে পারে উন্নয়নের মানদন্ড। কিন্তু দেশে প্রতিদিন অসংখ্য নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা শুধু পত্রিকাতেই আসে। অথচ কি নির্বিকার আমাদের রাষ্ট্র ও প্রশাসন!’

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘গণতন্ত্র ও সভ্যতার স্বার্থে, উন্নত রুচিবোধ ও সংস্কৃতি চেতনার আলোকে নারী-পুরুষের সৌন্দর্যমন্ডিত জীবন ও যৌথ কর্মপ্রয়াসের বিকল্প নেই। সমাজের অগ্রগতি ও প্রগতির স্বার্থে, সুস্থ নিরাপদ জীবনযাপন ও পরবর্তী প্রজন্মের মনুষত্ব নিয়ে বেড়ে উঠার স্বার্থে নারী-পুরুষের মধ্যকার অসাম্য-বৈষম্য বিলোপ আজ সময়ের দাবি। সেই দাবি পূরণের লক্ষ্যে নারী আন্দোলন ও নারী-পুরুষের মিলিতভাবে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রাম বেগবান করা অপরিহার্য। আমরা বিশ্বাস করি সমাজের আমূল পরিবর্তনের বিপ্লবী পথে সার্বিক মুক্তি একদিন অর্জিত হবে।’

নেতৃবৃন্দ দেশে নারী নির্যাতন, নারীর প্রতি বৈষম‌্যসহ সকল ক্ষেত্রে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সমাজে ও পরিবারে গণতান্ত্রিক মূল‌্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন