ডেস্ক রিপোর্ট

৬ মার্চ ২০২৩, ১১:১৩ অপরাহ্ণ

মেহনতি মানুষের নেতৃত্বেই গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে : সিপিবি

আপডেট টাইম : মার্চ ৬, ২০২৩ ১১:১৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: শ্রমিকশ্রেণিসহ মেহনতি মানুষের নেতৃত্বেই গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, দ্বি-দলীয় রাজনীতি যখন কেনাবেচা, আখের গোছানো, নোংরা খেলা, সেখানে নীতির প্রশ্নে আপসহীন থেকে শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি মানুষের পার্টি সিপিবি ‘মানুষ ও প্রকৃতির মুক্তির’ লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন। সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ প্রমুখ।

সমাবেশে মো. শাহ আলম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সিপিবি সবচেয়ে অপসহীন ও মেহনতি মানুষের স্বার্থে যোগ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর এই শক্তি ও দৃঢ়তা অর্জন করেছে তার ৭৫ বছরের লড়াই-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, বেআইনি থাকার পরেও পাকিস্থানের দীর্ঘ শাসন ও শোষণবিরোধী লড়াইয়ে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন, দুর্নীতি-লুটপাট রুখে দাঁড়াতে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনসহ দেশের সকল শ্রেুণিপেশার আন্দোলনে সিপিবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ, সিপিবি ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলাবাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধে এনেছিল নতুন এক মাত্রা, যা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে আজও স্মরণ করে। আজকের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বি-দলীয় লুটপাট ও ক্ষমতাকেন্দ্রীয় ভাগ-বাটোয়ার ধারার বিপরীতে সিপিবি আদর্শের ঝান্ডা নিয়ে অন্যান্য বামপন্থীদের নিয়ে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন এর দাবি জানান।

৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিপিবি নেতৃবৃন্দ এ দেশের সকল নির্যাতিত ও মেহনতি মানুষকে লাল পতাকাতলে সমবেত হবার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বছরব্যাপী সারা দেশে নানামুখী কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য লাল পতাকা মিছিল পুরানো পল্টন, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, দিলকুশা, গুলিস্তান হয়ে পার্টি কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। সমাবেশের পূর্বে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত ও কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল পরিবেশন করা হয়। এরআগে গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীবৃন্দ।

৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসে সারাদেশের জেলা সদর ও উপজেলা, থানায় পার্টি কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও সমাবেশ-র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন