ডেস্ক রিপোর্ট

৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

ত্বকী হত্যার ১১৮ মাস: ‘ঘাতকেরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ দেখে না’

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ৮, ২০২৩ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ঘাতকেরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। আজ রোববার সন্ধ্যা নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গণে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১১৮ মাস উপলক্ষে আলোক প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ত্বকী হত্যার পর থেকে প্রতি মাসের ৮ তারিখ এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে। সংগঠনের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ত্বকীর বাবা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।

ত্বকীসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে রফিউর রাব্বি বলেন, যে ওসমান পরিবার ত্বকী হত্যাসহ বহু অপকর্মের জন্মদাতা, সরকার বিভিন্ন সময় তাদের পুরস্কৃত করেছে। সাগর-রুনি, তনুসহ নারায়ণগঞ্জের সব হত্যার বিচার দাবি করেন ত্বকীর বাবা।

ওসমান পরিবারকে ইঙ্গিত করে ত্বকীর বাবা বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে শহরে হকার অপসারণকে কেন্দ্র করে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শামীম ওসমান বাহিনীর সশস্ত্র হামলার চিত্র আমরা দেখেছি। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অস্ত্রসহ সে ছবি ছাপা হওয়ায় সারা দেশের মানুষ দেখেছে। অথচ সে মামলা থেকে দুদিন আগে সব অস্ত্রধারীকে খালাস দিয়ে পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে পুলিশ জনগণের নয়, ওসমান পরিবারের হয়ে কাজ করে। প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ হামলা করলেও পুলিশ তা দেখে নাই। জবানবন্দি দেওয়া ত্বকীর ঘাতকেরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ দেখে না। অস্ত্রবাজ অপরাধীদের নিয়ে এখানে পুলিশ কমিউনিটি পুলিশ তৈরি করে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা আহ্বায়ক নিখিল দাস, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি মুহাম্মদ সেলিম ও সদস্য পিন্টু সাহা।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তাঁরা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজও আদালতে পেশ করা হয়নি।

শেয়ার করুন