ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ জুলাই ২০২২, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

ডব্লিউটিওর সংস্কারে বাংলাদেশকেও অংশ নিতে হবে: ইআরডি সচিব

আপডেট টাইম : জুলাই ২৬, ২০২২ ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান বলেছেন, আগামীতে সার্বিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারের প্রয়োজন হবে। সেই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আসন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে আয়োজিত ‘ডাব্লিউটিও -১২: ইমপ্লিকেশন ফর গ্রাজুয়েটিং এলডিসি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব শরিফা খান। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তসমূহ এবং স্বল্পোন্নত দেশ হতে আসন্ন সময়ে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ওই বৈঠকের তাৎপর্যসমূহ পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্যিক সংগঠনসমূহ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং থিংক ট্যাঙ্কসমূহের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

ইআরডি সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতার উৎকর্ষ সাধন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সুবিধাসমূহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা বা নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সেমিনারে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের জন্য বাংলাদেশকে কীভাবে প্রস্তুত হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সর্বশেষ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণরত দেশগুলোর মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছে। এটি উত্তরণরত দেশসমূহের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।

তিনি বলেন, আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা ও নেগোসিয়েশন চালিয়ে যেতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধে তিনি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের ১২তম বৈঠকের জন্য এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল তা প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পরবর্তী জেনারেল কাউন্সিলের প্রথম সভায় উপস্থাপন করার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় গবেষণা, বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা এবং উত্তরণ পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রস্তাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সঙ্গে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্যানেলিস্ট হিসেবে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম প্রমুখ।

শেয়ার করুন