ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ মে ২০২২, ৮:১৬ অপরাহ্ণ

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করার প্রস্তাবে বাসদ (মার্কসবাদী)’র তীব্র নিন্দা

আপডেট টাইম : মে ১৯, ২০২২ ৮:১৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা আজ ১৯ মে সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে সরকারী সংস্থা বিইআরসি কর্তৃক বিদ্যুতের দাম ৫৮% বৃদ্ধি করার প্রস্তাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মূল্যবৃদ্ধির ঘৃণ্য পাঁয়তারার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বিবৃতিতে বলেন, “বিদ্যুৎখাতে আওয়ামীলীগ সরকারের ভুল নীতি, দূর্নীতি ও লুটপাটের ফলে সৃষ্ট লোকসানের দায় জনগণের কাঁধে চাপাতে আবারো বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির আয়োজন চলছে। তেলভিত্তিক বেসরকারি রেন্টাল, কুইক রেন্টালগুলো থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি ও উৎপাদন না করলেও বসিয়ে বসিয়ে ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) দেওয়ায় বিদ্যুৎখাতে ক্রমাগত লোকসান বাড়ছে। কাগজে কলমে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও, এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট (এপ্রিল)। শীতে তা ৭ থেকে ৮ হাজার মেগাওয়াটে নেমে আসে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার একটা বড় অংশ বসে থাকে। এরপরও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ না করে, বেসরকারী আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ না কিনলেও চুক্তি অনুসারে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে ১৩ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ দিতে হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।

আগে দাম বাড়ানোর সময় কুইক রেন্টালের মেয়াদ না বাড়ানোর নির্দেশনা ছিল কমিশনের। অথচ তা না করে সরকার ’বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) সংশোধন বিল—২০২১’ বর্তমান অবৈধ সংসদে পাস করে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ আরো ৫ বছর বাড়িয়েছে। বাস্তবে সরকারদলীয় কুইকরেন্টাল ব্যবসায়ীদের লুটপাট ও মুনাফা অবাধ রাখতেই তা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের এ অরাজক অবস্থার মধ্যে কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও সরকার উচ্চমূল্যে ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করেছে। আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ আনতে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বছরে প্রায় ৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা এবং ২৫ বছরে ৯৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা দিতে হবে বাংলাদেশকে। যা জনগণের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

এছাড়া নির্মাণাধীন কয়লা ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উচ্চ উৎপাদনমূল্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে, এ লোকসান বিশাল রূপ নেবে। ফলে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের এ ভুলনীতি, লুটপাট ও অরাজকতা চলতে থাকলে, দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে জনগণের নিস্তার নেই।”

তিনি বলেন, “বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ শুনে ‘বিদ্যুৎখাতের শ্বেতহস্তী’ অপ্রয়োজনীয় কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সময়মতো বন্ধ, প্রতিবছর ৩৫০০ কোটি টাকার সিস্টেমলসের নামে অপচয়, চুরি ও দূর্নীতি বন্ধ, সরকারি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পুরনো যন্ত্রপাতি মেরামত ও আধুনিক করে একই পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোন প্রয়োজন হতোনা। এমনিতেই গত কয়েক মাস ধরে চাল—ডাল—তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের জনগণ দিশেহারা। করোনা মহামারীতে দেশের মানুষের আয় কমেছে। অসংখ্য মানুষ কাজ হারিয়ে বেকারত্বের বোঝা বহন করছে। সংসার চালানোই হয়ে পড়েছে দুষ্কর। এই অবস্থায় সরকার পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা তো নেয়ইনি, উল্টো এখন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে শিল্প—কৃষিতে খরচ বাড়ার ফলে সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এবং মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে, সাধারণ মানুষের বাঁচাই কঠিন হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকেই একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১১ বছরে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৯০%, গ্যাসের দাম ১৪৪% ও পানির দাম ২৬৪% বাড়িয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। তাই কার্যত এদেশে জনগণের মতামতের আর কোনো তোয়াক্কা করতে হয় না। যখন যা খুশি, মালিক শ্রেণির স্বার্থে তাই করতে পারে।” তিনি মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারার প্রতিবাদসহ এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন