ডেস্ক রিপোর্ট
৭ মে ২০২২, ১:০১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: নবীগঞ্জ উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘ রেজিঃ নং মৌল-৩০ এর সদস্যদের মধ্যে পরিচয়পত্র প্রদান উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পুরান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক শ্রমিক সভা অনুষ্টিত হয়।
নবীগঞ্জ উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘ রেজিঃ নং মৌল-৩০ এর সভাপতি মোহাম্মদ সাফিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বি-২২০০ এর সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নবীগঞ্জ উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘ রেজিঃ নং মৌল-৩০ এর সাধারণ সম্পাদক সামছু মিয়া, সহ-সভাপতি আবুল বশর, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফাত আলী, কোষাধ্যক্ষ আবুল বার, প্রচার সম্পাদক আব্দুল হাই, দপ্তর সম্পাদক আওয়াল মিয়া, সদস্য শেখ অনু মিয়া, কনর মিয়া, আবুল ফজল, শফিকুল ইসলাম, মোঃ আলমগীর মিয়া, সামাদ মিয়া, আলী আসকর, জিলু মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, দিলু মিয়া, সাইফুর রহমান, খালেদ মিয়া প্রমূখ।
সভায় বক্তারা একদিনের মধ্যে সোয়াবিন তেলের মূল্য প্রতি লিটারে ৩৮-৪৪ টাকা বৃদ্ধির করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে বর্তমানে স’মিল শ্রমিকরা যে মজুরি পান তা দিয়ে একজন শ্রমিক পরিবারের ১০ দিনও চলে না। চাল, ডাল, তেল, চিনি, শাক-সবজিসহ নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজেল-কেরোসিন জ্বালানি তেল, বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া ও ঔষুদপত্রের মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন দিশেহারা। অথচ স’মিল শ্রমিকসহ দেশের অধিকাংশ মানুষের আয় বাড়েনি। ২০১৪ সালে সরকার সর্বশেষ নি¤œতম মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে স’মিল শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করার প্রায় ৮ বছর হতে চললেও নতুন মজুরি নির্ধারণ করেনি। তারউপর স’মিল শ্রমিকদের চাকুরির নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। অধিকাশ স’মিলের মালিকরা শ্রমআইন, রাষ্ট্রীয় আইনের তোয়াক্কা করেন না।
শ্রমআইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান, দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি, মজুরিসহ সাপ্তাহিক ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি(বছরে ১০ দিন), চিকিৎসা ছুটি(বছরে ১৪ দিন), উৎসব ছুটি(বছরে ১১ দিন) অর্জিত ছুটি(বছরে ২০ দিন) ইত্যাদির প্রদানের বিধান থাকলেও তা প্রদান করা হয় না। শ্রমিকদের কথায় কথায় ছাঁটাই করা হয়। শ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জন্য কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে স’মিলে কর্মরত শ্রমিকদের শতকরা ৬০ শতাংশ দূর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন। কাঠ চিরতে যেয়ে করাত ছিড়ে, করাত খোলে, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কারণে, স্থানান্তর ও উঠানামা করার সময় গাছ পড়ে দূর্ঘটনা ঘটে শ্রমিক হতাহত হওয়ার ঘটনা সাধারণ চিত্র। এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অঙ্গহানি হয়, কোন কোন ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। কাজ করতে যেয়ে এ সমস্ত দূর্ঘটনার শিকার শ্রমিকের উপযুক্ত চিকিৎসা যেমন মালিক করেন না, তেমননি অঙ্গহানি ও মৃত্যুর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপুরণও দেওয়া না। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে একজন শ্রমিকের দৈনন্দিন খাওয়া খরচ নিম্নতম ১৫০-২০০ টাকা, সেই হিসেবে ৬ জনের একটি পরিবারের জন্য শুধু খাবার খরচের জন্য মাসিক ২৪০০০ টাকা প্রয়োজন।
সভা থেকে স’মিল সেক্টরে নি¤œতম মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে অবিলম্বে বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ ন্যায্য মজুরি ঘোষণা, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো এবং স’মিল শ্রমিকসহ শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণের জন্য স্বল্পমূল্যে সর্বাতœক রেশনিং চালুর দাবি জানান।
সভায় প্রধান অতিথি ৩৩ জন শ্রমিকের মধ্যে ইউনিয়নের পরিচয়পত্র প্রদান করেন।