ডেস্ক রিপোর্ট
২৩ নভেম্বর ২০২১, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: মহান রুশ বিপ্লবের ১০৪-তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভা জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুরুজ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছাদেক মিয়ার পরিচালনায় ২২ নভেম্বর ২১, সন্ধ্যা ৬ ঘটিকার সময় সুরমা মার্কেস্থ জেলা কার্যালয় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন ; মহান রুশ বিপ্লবের অজেয় ও অমর শিক্ষাকে সামনে রেখে সাম্রাজ্যবাদী অন্যায়যুদ্ধ তথা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে শ্রমিক শ্রেনীর নেতৃত্বে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং বাংলাদেশের মত নয়াউপনিবেশিক -আধা সামন্তবাদী দেশগুলোতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব জয়যুক্ত করে বিশ্ব বিপ্লব তথা আসন্ন সমাজতন্ত্র- কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার সুমহান লক্ষ্য আজ পৃথিবীর সকল শোষিত মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির এ রকম জটিল পরিস্থিতিতে মহান রুশ বিপ্লবের চেতনাকে ধারন করে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে।
রুশ বিপ্লব দুনিয়ার শ্রমিকশ্রেনী, নিপিড়ীত জাতি ও জনগণের সামনে মুক্তির আলোকবর্তিকা হিসেবে পথ প্রদর্শন করে। মহান রুশ বিপ্লবের চেতনাকে ধারন করে দেশে দেশে শোষনহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার আহবান জানান। সভার শুরুতে লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার অন্যতম নেতা বদরুল আজাদ।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ; বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক রমজান আলী পটু, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, সিলেট জেলা স’মিল শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার অন্যতম নেতা শুভ আজাদ শান্ত, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন এর সহ-সভাপতি মোঃ জাকির সহ প্রমুখ।
বক্তারা আরো বলেন ; প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় শ্রমিক কাজ করে তার ন্যায্য মজুরি পায় না, কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত, ছাত্রের শিক্ষা শেষে কাজ নেই অথচ আমাদের দেশের এমপি মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও উন্নয়ের গাল ভরা বুলি আওড়িয়ে চলছেন। সিজান জুস কারখানায় আগুনে পুড়ে শ্রমিক হত্যা, ছাত্রের শিক্ষা শেষে কাজ না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিতে হয়, নয় বছরের শিশু থেকে ষাটোর্ধ্ব বছরের নারীরা যে ধর্ষনের শিকার হচ্ছেন সেই সমাজে মানুষের যে মৌলিক অধিকার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
সকল প্রকার শোষন নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেনীর নেতৃত্বে শ্রমিক কৃষকের মৌত্রির ভিত্তিতে শোষনহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে।