ডেস্ক রিপোর্ট
২২ এপ্রিল ২০২২, ৭:০০ অপরাহ্ণ
বগুড়া প্রতিনিধি:: ঈদের ছুটির আগেই শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন, পূর্ণ বোনাসসহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ, শ্রমজীবীদের জন্য নিত্যপণ্যের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে বগুড়ায় মিছিল হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায়, বগুড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কে মিছিল শেষে সাতমাথায় সমাবেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের বগুড়া জেলা সভাপতি সাইফুজ্জামান টুটুল, সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক কমরেড অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, শ্রমিক ফ্রন্ট, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেশ চন্দ্র দাস মনো, প্রচার সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বাবু প্রমুখ।
কমরেড অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, বিগত দুই বছরের করোনায় সরকার এবং মালিকদের উন্নয়নের ফাঁকা আওয়াজের মুখোশ উম্মোচিত করেছে। শ্রমিকের শ্রমই যে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এই সত্যটি সবার সামনে স্পষ্ট হয়েছে। কয়েকদিন পরেই আমাদের দেশের মুসলিম ধর্মবলাম্বীদের বড় উৎসব ঈদ, তাই ঈদের ছুটির পূর্বেই সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন-ভাতা, চলতি এপ্রিল মাসের বেতন ও পূর্ণ উৎসবভাতা পরিশোধ করতে সকল মালিক ও সরকারের প্রতি অহ্বান জানান। সেই সাথে তিনি চাল, ডাল, তেল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লামাগহীন উর্ধ্বগতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, করোনা মহামারীকালে মানুষ চাকুরি হারিয়েছে, আয় কমেছে; এমতাবস্থায় আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থই শুধু নয়, মুনাফালোভী বাজার সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। সমাবেশে গ্রাম-শহরের শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বেসরকারি বাণিজ্য বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাজার মনিটরিং জোরদার করা, মুনাফাখোর সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা, মজুমদার, আড়তদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, টিসিবি’র পণ্য বিক্রির ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যন্ত ওএমএস এর বিক্রি সম্প্রসারিত করা, গ্রাম-শহরের শ্রমজীবী জনগণের জন্য আর্মি রেটে পূর্ণাঙ্গ রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, ঈদের ছুটি শুরু হবে ১ লা মে থেকে অর্থাৎ শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের পূর্ণ বেতন পাওনা হবে। তাই মজুরি আটকে শ্রমিকদের জিম্মি করার কৌশল বাদ দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের ১৫ দিনের নয় এপ্রিল মাসের পূর্ণ বেতন পরিশোধ করার দাবি জানান এবং তিনি বলেন শ্রমিকদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে বকেয়া বেতন ও বোনাস না দিয়েই অনেক মালিক অযৌক্তিকভাবে ঈদের পূর্বে কারখানা লে-অফ ও শ্রমিক ছাঁটাই করেন, যা শ্রম আইনের অপপ্রয়োগ। যে সব মালিক শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা লে-অফ করেন সে সকল মালিকদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। অবিলম্বে সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন-ভাতা, চলতি মাসের বেতন ও পূর্ণ উৎসবভাতা ঈদের ছুটির পূর্বেই পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকেরা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে আর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় মালিক ও সরকারকেই নিতে হবে।
অন্যন্য নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাবেশ থেকে ঈদের ছুটির আগেই শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন, পূর্ণ বোনাসসহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধে মালিকদের টালবাহানা সহ্য করা হবেনা উল্ল্যেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সবচেয়ে আলোচিত শিল্প পোষাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি ২০১০ সাল থেকে পরবর্তী ৯ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ শতাংশ একই সময়ে তাদের খাদ্য বাবদ ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০ শতাংশ আর আবাসন ব্যায় বেড়েছে ১১০ শতাংশ। ২০১৮ সালের সর্বশেষ মজুরি ঘোষণার পর থেকে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ শতাংশ আর খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের মুল্যবৃদ্ধি হয়েছে ৭০ থেকে ১২০ শতাংশ। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আবাসন-চিকিৎসা ব্যায়সহ জীবনযাপনের ব্যায় বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে এবং শ্রমিকদের জীবনমানের মারাত্মক অবনতি হচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরির মান ধরে রাখতে এবং তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে রেশনিং এর মাধ্যমে নিত্যপণ্য সরবরাহ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আয় বৈষম্য কমিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী স্থীতিশীল শিল্প সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণাসহ স্কপের ৯ দফা বাস্তবায়নের আহবান জানান।।