ডেস্ক রিপোর্ট
১৫ মার্চ ২০২২, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: রেডিমেড দর্জি শ্রমিকদের মজুরি হার বৃদ্ধি,মাস শেষে মাসিক মজুরি প্রদানসহ ৮ দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রেডিমেড দর্জি শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়েছে।
সকাল ০৯টায় মজুরি বৃদ্ধিসহ ০৮ দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবস্থান ধর্মঘট(কর্মবিরতি) শুরু করে। ধর্মঘট চলাকালে লেডিস পার্ক হকার্স মার্কেটের সামনে রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশ করেন দর্জি শ্রমিকরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দর্জি শ্রমিক নেতা ইউনুস আহমেদ, আক্কাস আলী, ইদ্রিস, রাজীব এবং সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন দর্জি শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা মাসুদ রানা, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ঢাকা নগরের সদস্যসচিব মানিক হোসেন, সদস্য ভজন বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের নেতা মাহবুবুর রহমান মানিক। বেলা ১২ টার দিকে মালিক পক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের দাবী মানার আশ্বাসে আগামীকাল বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে কর্মবিরতি চলবে।
এর আগে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, রেডিমেড দর্জি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছি। আমরা মালিক সমিতিকে স্মারকলিপি দিয়েছি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, থানায় স্মারকলিপি দিয়েছি। সদরঘাট থেকে প্রেসক্লাব এক হাজার দর্জি শ্রমিকের মিছিল করে শ্রম মন্ত্রণালয়, নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে দর্জি শ্রমিকদের দাবির কথা বলেছি। জেলা প্রশাসক, কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছি। মালিক সমিতিকে পুনরায় চিঠি দিয়েছি। ১৩ মার্চ মালিক সমিতির সভাপতি শ্রমিকদের কাছে দুইদিন সময় চেয়েছিল। আমরা দুইদিন সময় দিয়েছি। আজ শ্রমিকদের সাথে মালিকদের বৈঠকে কোনো যৌক্তিক সমাধানে মালিকপক্ষ আসে নি। ফলে দর্জি শ্রমিকরা আগামীকাল কাল থেকে ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হচ্ছে। শ্রমিকদের এই ধর্মঘটে বাধ্য করা হয়েছে।
দেশের মানুষের পোশাকের চাহিদা পূরণ করে যে রেডিমেড দর্জি শ্রমিকরা তাদের জীবনের কাহিনী কেউ জানে না। তাদের তৈরি পোশাক পরে মানুষের সৌন্দর্য্য বাড়ে, মালিকদের মুনাফা বাড়ে। কিন্তু এই শ্রমিকদের মজুরি বাড়ে না, তাদের অবস্থার কোন উন্নতি হয় না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ১৫ বছর পরে শার্ট সেলাইয়ের মজুরী আন্দোলনের চাপে ২ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। কিন্তু গত ৬ বছরে এই শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি।
এছাড়াও আছে হাজার সমস্যা। কাজ করে শ্রমিকদের যা পাওনা হয় তা তারা মাসিক ভিত্তিতে পায় না। মালিক তাদের দৈনিক ২০০ টাকা খরচ দেয়। এর বাইরে কাজের বাকী টাকা ঝুলে থাকে চাঁদ রাতের (ঈদের আগের রাত) জন্য। রেডিমেড দর্জি কারখানাগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আলো—বাতাসহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নেই পযার্প্ত টয়লেট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজ করলেও মালিকদের পক্ষ থেকে নেই কোন নাস্তার ব্যবস্থা, নেই বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ। ঈদ বা শীতসহ বিভিন্ন পোষাক কেনার মৌসুমে মধ্যরাত পর্যন্ত, কখনও টানা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্তও কাজ করে শ্রমিকরা। মালিকরাও বেশি দামে মাল বিক্রি করে । কিন্তু ঈদ বোনাস বা সিজন বেনিফিট কোনটাই পায় না শ্রমিকরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনায় সবচেয়ে কষ্টকর জীবন যাপন করেছে গরিব—শ্রমজীবী মানুষ। মাসের পর মাস কাজ ছিল না। কেমন করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চলেছে কোনো মালিক খোঁজ পর্যন্ত রাখে নি। অথচ বছরের পর বছর শ্রমিকদের শ্রমে মালিকের মুনাফা বেড়েছে।
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ আগামীকালের মধ্যে মলিকপক্ষ শ্রমিকদের সথে বসে দাবি মেনে নেয়ার যে আশ্বাস দিয়েছে সেটা না হলে ধর্মঘট চলমান রাখার ঘোষণা দেন।