ডেস্ক রিপোর্ট
১ মে ২০২১, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: মহান মে দিবসে বাশঁখালিতে শ্রমিক হত্যার বিচার, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, ১৬ হাজার টাকা মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন,করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের খাদ্য ও অর্থসহায়তার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন।
মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে আজ সকাল ১১ টায় সিইপিজেড চত্বরে অনু্ষ্ঠিত এক শ্রমিক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
সংগঠনের জেলা আহবায়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনু্ষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুন্নবী কনক, সদস্য মোঃ ফরহাদ, নাসিরউদ্দিন, মোঃ সুমন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন,”আজ থেকে ১৩৫ বছর আগে আমেরিকার শ্রমিকশ্রেণী ৮ ঘন্টা কর্মদিবসের দাবিতে রক্ত দিয়েছিল।আর আজ ৮ ঘন্টা কর্মদিবসের দাবি তোলায় বাঁশখালির এসআলম বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭ জন শ্রমিককে পুলিশের গুলিতে জীবন দিতে হলো।৮ ঘন্টা কর্মদিবস,বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি তোলায় একদিকে সরকারের পুলিশ বাহিনী গুলিতে শ্রমিক হত্যা করবে ,অন্যদিকে মে দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক অধিকারের বাণী দেবেন,এ দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়।মজুরির দাবি জানানোয় পুলিশের গুলিতে,মালিকের নির্যাতনে,আগুনে পুড়ে,ভবন ধ্বসে এদেশের শ্রমিকদের প্রাণ দিতে হয়।কিন্তু শ্রমিক হত্যাকারী কোন মালিকের আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন,করোনা মহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শ্রমিকরা।অথচ সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে গার্মেন্টস মালিক ও শিল্পপতি গ্রুপকে।খাদ্য ও অর্থ সহযোগিতা নিশ্চিত না করে লকডাউন দেওয়ায়,চরম দুর্দশায় নিমজ্জিত হয়েছে ৬ কোটি অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক,যাদের দৈনিক আয়ে সংসার চালাতে হয়।ঈদে আগে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেতন-বোনাস পাবেন কিনা,তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছেন।করোনাতে যখন শ্রমিকরা বিপর্যস্ত,তখনই মালিকদের স্বার্থে সরকার শ্রম আইনের কর্মঘন্টা ও ওভারটাইম সম্পর্কিত ধারা ৬ মাসের জন্য স্থগিত রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।এ প্রজ্ঞাপন চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক ও শ্রমআইন বিরোধী।দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে,অথচ রাষ্ট্র-সরকার স্বার্থ দেখছে মালিকদের।অবিলম্বে এ প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন,মে দিবসের চেতনা হলো,শুধু অর্থনৈতিক দাবি দাওয়া আদায়ের আন্দোলনে শ্রমিকের মুক্তি আসবেনা।প্রয়োজন মজুরি দাসত্বের শৃঙ্খল উচ্ছেদের আন্দোলন।এ পুঁজিবাদী মালিকী ব্যবস্থাই শ্রমিকদের সকল দুর্দশার উৎস।ফলে একে উচ্ছেদ করার জন্য আজ আপোষহীন বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন ও আন্দোলন গড়ে তোলার সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।“