ডেস্ক রিপোর্ট

৫ নভেম্বর ২০২১, ১১:৩২ অপরাহ্ণ

বগুড়ায় শ্যামল ভট্টাচার্য্যের ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : নভেম্বর ৫, ২০২১ ১১:৩২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবি শ্যামল ভট্টাচার্য্যের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ৫ নভেম্বর বিকাল ৪:০০টায় উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাসদ বগুড়া জেলা আহবায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সঞ্চালনা করেন বাসদ জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল।

বক্তব্য রাখেন প্রয়াত শ্যামল ভট্টাচার্য্যর পুত্র অভ্র ভট্টাচার্য্যর অভি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব তোফাজ্জল হোসেন, সিপিবি বগুড়া জেলা সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আরশাদ সায়ীদ, বগুড়া নাট্যদলের সভাপতি মির্জা আহসানুল হক দুলাল, বাসদ বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য অ্যাড.দিলরুবা নূরী, অরূপ রাহী রাকিব প্রমুখ।

স¥রণসভায় অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, “ শ্যামল ভট্টাচার্য্য ব্যাক্তিচিন্তাকে অতিক্রম করে সমাজ ভাবনায় তাড়িত ছিলেন বলে তিনি সকলের হতে পেরেছিলেন, তা নাটক হোক, শিক্ষকতা পেশায় হোক, জীবন ভাবনায় হোক সমস্ত জায়গায় তিনি সমাজ নিয়ে ভাবতেন। তার এই চেতনাটা আজ খুব জরুরী।”

অভ্র ভট্টাচার্য্য অভি বলেন, “শ্যামল ভট্টাচার্য্যকে বুঝতে হলে তার পুরো জীবনটাকে বুঝতে হবে। তিনি যা যা করেছেন সব বুঝতে হবে। তিনি অনেক কিছু করতে পারতেন, বগুড়ার মানুষ তার কাছ থেকে অনেক কিছু করে নিতে পারতেন। তার যা দক্ষতা ছিল বগুড়ার মানুষ তা নিঙরে নিতে পারতেন। কিন্তু তা হয়নি কারণ যে সমাজ আমরা তৈরি করেছি সেই সমাজ সবকিছু খেয়ে ফেলে, সবকিছু হজম করে ফেলে। যে সমাজে একজন মানুষকে পিটিয়ে মারার জন্য পঞ্চাশজন মানুষকে পাওয়া যায় সেখানে একজন মানুষকে বাঁচানোর জন্য একটি মানুষ পাওয়া যায় না। সেই সমাজে শ্যামল ভট্টাচার্য্য ছিলেন উজান গাঙের মাঝি।”

শিক্ষাবিদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “ শ্যামল ভট্টাচার্য্যরে কর্মকে কয়েকভাগে ভাগ করা যায়। এক শিক্ষকতা পেশা- যেখানে শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র সিলেবাসের মধ্যে না রেখে পৃথিবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। যার কারণে ছাত্ররা তাকে মনে রাখেন। আর একটা দিক হলো নাট্যকর্ম যেখানে ছিল অসাধারণ শৈল্পিক মান। আরেকটা দিক তার মানবিকতার দিক। তার লেখা গল্প শ্যামা পাখি ছিল পাখিদের নিয়ে একটি গল্প যেখানে প্রাণীকে কিভাবে ভালোবাসতে হয় পরিচর্যা করতে হয় তা নিখুঁতভাবে তুলে এনেছেন। যেখানে মানবতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার কর্ম ছিল অত্যন্ত মূল্যবান যা আর হয়ত আমরা পাবনা।”

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না বলেন, “সমাজ বিবর্তনের ধারায় আজকের পুঁজিবাদি সমাজ ধ¦ংস হবে, মানবমুক্তি ঘটবে। শ্যামল ভট্টাচার্য্যও সেই স্বপ্ন দেখতেন। তিনি জীবনভর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ করেছেন।”

ডাঃ আরশাদ সাঈদ বলেন, “শ্যামল ভট্টাচার্য্যরে যে চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা যাকে ধারণ করে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমরা চাই সেই চেতনা আবার বিকশিত হোক।”

স্মরণ সভায় অন্যান্য আলোচকবৃন্দ বলেন, পুঁজিবাদী সমাজের ভোগবাদী মানসিকতা যখন সর্বগ্রাসী রূপ নিয়ে চারিদিকে অক্রমন করছে, তখন নির্মোহ চরিত্রের মানবদরদী মানুষের ভীষণ সংকট এই রকম এক পরিস্থিতিতে আমরা গত বছর ০৪ নভেম্বর শ্যামল ভট্টাচার্য্যর মতো আপোষহীন, প্রচারবিমুখ, অসাম্প্রদায়িক, সংস্কৃমিনা শিক্ষানুরাগী একজন মানুষকে আমরা শারীরীক ভাবে হারিয়েছি। কিন্ত স্যার আমাদের চেতনায়-স্বপ্নে অমর হয়ে থাকবেন চিরকাল। তার কাঙ্খিত সমাজ নির্মাণের সংগ্রামের যে বীজ বপন করে গিয়েছেন তাদের সংগ্রামের মাঝেই তিনি বেঁচে থাকবেন।

শেয়ার করুন