ডেস্ক রিপোর্ট

১ নভেম্বর ২০২১, ১১:০৭ অপরাহ্ণ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্প্রীতি সমাবেশ

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১, ২০২১ ১১:০৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: সম্প্রতি শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে দেশের বিভন্ন অঞ্চলে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’ নামের একটি সংগঠন।

সোমবার (১ নভেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে “সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও”- এ স্লোগানকে সামনে রেখে দুর্গাপূজায় কুমিল্লা, চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে এ সমাবেশ করেন প্রায় ৬১টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভার শুরুতে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

সমাবেশে তিন দফা দাবি পেশ করেন ডা.ফওজিয়া মোসলেম। দফাগুলো হলো, আজকে যারা এ হামলা ও লুটপাটের জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে; এ ঘটনায় পুলিশের নির্লিপ্ততার বিচার বিভাগীয় তদন্তের বাইরেও অন্যান্য বিচার করতে হবে এবং এরকম ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, আজ সময় এসেছে এসব ঘটনা কেন বারবার ঘটছে তা খতিয়ে দেখার। সমাজ থেকে এ সহিংসতা চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে আইসিটির ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে, সব ধর্মের মানুষকে সমান মর্যাদা দিতে হবে। জনপ্রতিনিধি, জনগণ সবাইকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে।

সভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা আরও বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা করছে, তাদের এদেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। যারা বিভিন্ন ওয়াজের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ তৈরি করছে, সহিংসতার সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।

সংবিধানের চারটি মূল স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা আমাদের সামগ্রিক জীবনে কমে আসছে। আজ সবকিছুতেই ধর্ম নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আজ ধর্মচর্চার সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। রাজনীতিতে আজ ধর্ম নিয়ে আসা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, আমরা যত সমালোচনাই করি না কেন, রাজনীতিকে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত করতে না পারলে প্রশাসন, সংস্কৃতি, অর্থনীতিসহ আমাদের পুরো সমাজ কাঠামো কখনোই অসাম্প্রদায়িক হতে পারবে না।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় সংহতি জানান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দীন আহমেদ মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সালমা আলী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য, প্রজন্ম একাত্তরের আসিফ মুনীরসহ আরও অনেকে। সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নিনা গোস্বামী।

সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার থেকে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত একটি মিছিল বের করা হয়।

শেয়ার করুন