ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ আগস্ট ২০২১, ৭:২২ অপরাহ্ণ

বাসদ নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সোনারগাঁয়ে মিছিল সমাবেশ

আপডেট টাইম : আগস্ট ১৭, ২০২১ ৭:২২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: বাসদ নেতা ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ এর নামে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বাসদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপর হামলা ও অফিস ভাংচুরকারী চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরসহ সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাসদ সোনারগাঁ উপজেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫টায় মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বাসদ সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম নেতা রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সোহেল, বাসদ সোনারগাঁ উপজেলা ফোরামের সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাইফুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টে সোনারগাঁ উপজেলার আহ্বায়ক ইসহাক মিয়া।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মাসদাইর চৌধুরী কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত বাসদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভা চলাকালে ঝুটসন্ত্রাসী সুমন ও জুয়ারী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসী অফিসে প্রবেশ করে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফের কাছে ৭ লাখ টাকা ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে শরীফকে হত্যা করবে এবং অফিস উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি দেয়। শরীফ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ
করলে সন্ত্রাসীরা শরীফসহ উপস্থিত নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায় এবং এলোপাথারী মারধর করে ও অফিসের ভিতরে ভাংচুর চালায়। এতে মারাত্মক আহত রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসানসহ কমপক্ষে ১০ জন শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা-কর্মী আহত হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ঝুটসন্ত্রাসী সুমন ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর বিএনপি-জামাতের শাসনামলে মাসদাইর-গাবতলী এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিল। সুমনের নামে বহু সন্ত্রাসী মামলা আছে, বিভিন্ন মামলায় জেল খেটেছে এবং এলাকায় মাদকের সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীর ইন্টারনেট জুয়ারিচক্রের সাথে জড়িত এবং চাঁদাবাজিসহ এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে যুক্ত। সুমন ও জাহাঙ্গীর বর্তমানে মুখোশবদল করে চাঁদাবাজিসহ তাদের অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসনের নির্বিকার ভুমিকার কারণেই এসব সন্ত্রাসীরা আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাসদ অফিসে হামলার পর মামলা হলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। সন্ত্রাসী সুমন ও জাহাঙ্গীর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমাদের সংগঠনের কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের নির্বিকার ভূমিকার সুযোগ নিয়ে সুমন ও জাহাঙ্গীর পৃথকভাবে সমাজাতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফের নামে কোর্টে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ২টি পৃথক মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বাসদ নেতাদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বাসদ অফিসে হামলাকারী সুমন ও জাহাঙ্গীরসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন।

শেয়ার করুন