ডেস্ক রিপোর্ট

২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বগুড়ায় ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃত্বে ধনঞ্জয়-রিফাত

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ২২, ২০২৩ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি: ধনঞ্জয় বর্মনকে আহ্বায়ক, রিফাত আহমেদ রাব্বিকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট বগুড়ায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও জেলা কমিটি পরিচিতি উপলক্ষে সাতমাথায় র‍্যালি ও ছাত্র সমাবেশে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২১ জানুয়ারি বেলা ১১টায় সাতমাথায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ১১তম জেলা কমিটি পরিচিতি উপলক্ষে রেলি এবং ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্র সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন – জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিয়তি সরকার নিতু।

বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিদম শাহরিয়ার, জেলা সংগঠক রিফাত আহমেদ রাব্বি, সরকারি আজিজুল হক কলেজ সংগঠক তীর্থ চাকী, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ সংগঠক চামেলি খাতুন, মিষ্টি রানী, বিপ্লব চন্দ্র বর্মন, সুরঞ্জিত চন্দ্র বর্মন প্রমুখ।

সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন- ” দেশের রাজনীতিতে লুটপাটকারীরা যেমন একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে তেমনি শিক্ষাক্ষেত্রও বাণিজ্যিকীকরণ, বেসরকারিকরণ হতে হতে শিক্ষা আজ পণ্যে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে উত্তরণে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ঘটানো এবং ধ্বংসাত্মক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বদলানো জরুরী। এদেশের ইতিহাসের পরতে পরতে লড়াই-সংগ্রামের যে গাঁথা সেখানে বরাবরই ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজও ছাত্রসমাজের কাঁধে সেই দায়িত্ব অবধারিতভাবে ধাবিত হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এদেশের লড়াকুদের উত্তরসূরী হিসেবে সেই গুরু দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হবে।”

রিদম শাহরিয়ার বলেন – “শিক্ষাকে ধ্বংস করার সব ধরণের চক্রান্ত জারি রেখেছে শাসকশ্রেণি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে বাণিজ্যিক ধারার, সাম্প্রদায়িক ধ্যান ধারণার ভিত্তিতে। একমুখী শিক্ষার বদলে শিক্ষা আজ বহু ধারায় বিভক্ত। বর্তমানে ২০২৩ শিক্ষাক্রম সমন্বিত করার নামে চলছে এক জগাখিচুরী পদ্ধতি চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র। যার মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষাকে সংকোচিত করা হচ্ছে। ৩৯ বছর ধরে সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, একই ধারার শিক্ষার দাবিতে আমরা লড়ছি এবং শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কর্মীরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ভবিষ্যতেও সেই সংগ্রাম জারি থাকবে।” এই সংগ্রামে দেশের ছাত্র-তরূন সমাজকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৪সালে একতরফা ২০১৮ সালে ভোটহীনভাবে সরকার ক্ষমতায় আছেন। ১৪ বছরে শোষণ, লুন্ঠন, অর্থপাচার,দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে এক দুবৃর্ত্ত ও ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালাকানুন করেছে। ১৪ বছরে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে ৯বার, বিদ্যুতের দাম ১১ বার , জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে ৭ বার, ওয়াসার পানির দাম ১৩বার, বেড়েছে সারের দাম। কিন্তু বাড়েনি শ্রমজীবী মানুষের আয়। শিক্ষার ব্যয় বাড়ছে ক্রমাগত। বাজেটে বরাদ্দ ১১-১২% এর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। কাগজ কলমের দাম অন্যায়ভাবে বৃদ্ধি করেছে। বগুড়া সরকারী আজিজুল হক কলেজ, সরকারী মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজসহ প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত ভর্তি ফি, সেশন ফি, পরীক্ষার ফি ক্রমাগত বৃদ্ধি করার মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের সন্তানের শিক্ষাকে সংকোচিত করা হচ্ছে। আবাসিক, পরিবহন, চিকিৎসা, সেমিনার ফির নামে ফি নেওয়া হচ্ছে কিন্তু সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। কোনো জবাবদিহিতাও নেই প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের। ফলে শিক্ষা যেন আজ শুধু ব্যবসায়ের পণ্যে পরিণত হয়েছে। তাই এর প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নে লালিত হয়ে শোষণ মুক্তির পথে সচেতন লড়াই-ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন