ডেস্ক রিপোর্ট

১৩ আগস্ট ২০২১, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

ঝুটসন্ত্রাসী সুমনসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মিছিল

আপডেট টাইম : আগস্ট ১৩, ২০২১ ১১:১৯ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: বাসদ সদর উপজেলা কার্যালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ ও রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসানসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপর হামলা ও অফিস ভাংচূড়কারী চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরসহ সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ এর নামে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা ফোরামের সদস্য, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস. গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি অঞ্জন দাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা কামাল হোসেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মাসদাইর চৌধুরী কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত বাসদ সদর উপজেলা কার্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভা চলাকালে চাঁদাবাজ ঝুট সন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীর, কাউসার, আব্দুল্লার নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসী মিলিতভাবে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর করে ও অফিসের আসবাব পত্র ভাংচূড় করে। সন্ত্রাসীরা অফিসে প্রবেশ করে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফের কাছে ৭ লাখ টাকা ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে শরীফকে হত্যা করবে এবং অফিস উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি দেয়। শরীফ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সন্ত্রাসীরা শরীফসহ উপস্থিত নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায় এবং এলোপাথারী মারধর করে ও অফিসের ভিতরে ভাংচূড় চালায়। এতে মারাত্মক আহত হয় রিকশা,
ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসান। আরও আহত হয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসনাত কবীর, সহ-সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলী, সংগ্রাম পরিষদ নেতা মিলনসহ ১০ জন নেতা-কর্মী। আহতদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ঝুটসন্ত্রাসী সুমন ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর বিএনপি-জামাতের শাসনামলে মাসদাইর-গাবতলী এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিল। সুমনের নামে বহু সন্ত্রাসী মামলা আছে, বিভিন্ন মামলায় জেল খেটেছে এবং মাদকের সাথে যুক্ত। বর্তমানে সুমন ও জাহাঙ্গীর মুখোশ বদল করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের রাস্তাঘাটে হয়রানি করে, এলাকায় চাঁদাবাজি করে। জাহাঙ্গীর ইন্টারনেট জুয়ারি চক্রের সাথে জড়িত এবং চাঁদাবাজিসহ এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে যুক্ত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসনের নির্বিকার ভুমিকার কারণেই এসব সন্ত্রাসীরা আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাসদ অফিসে হামলার পর মামলা হলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। সন্ত্রাসী সুমন ও জাহাঙ্গীর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমাদের সংগঠনের কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের নির্বিকার ভূমিকার সুযোগ নিয়ে সুমন ও জাহাঙ্গীর পৃথকভাবে সমাজাতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফের নামে কোর্টে ষড়যন্তমূলকভাবে ২টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরসহ সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শ্রমিক নেতা বিপ্লব, সেলিম ও শরীফের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।

শেয়ার করুন