ডেস্ক রিপোর্ট
২১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: আসছে বছর আবার হবে, এই আশা আর ব্যাকুল ভালোবাসায় দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শুভ বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাঁচ দিনব্যাপী সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের কাঠি, ধূপের ধোঁয়া আর ভক্তদের অশ্রুসজল চোখে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে মর্ত্য ছেড়ে নিজ আলয় কৈলাসে ফিরে গেলেন দশভুজা দেবী।
রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও দর্পণ বিসর্জন শেষে বুড়িগঙ্গার বসিলা ঘাটে ট্রাকে করে আসতে থাকে দেবী দুর্গার প্রতিমা। আশপাশের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ঢাকের তালে নাচ-গানে দেবীকে বিসর্জন দিতে আসেন ভক্তরা।
মোহাম্মদপুরের মণ্ডপ থেকে বিসর্জনের জন্য ট্রাকে চড়ে এসেছেন সুদীপ্তা মজুমদার। পরনে লাল-সাদা শাড়ি, গালে সিঁদুর, ঢাকের তালে দেবী দুর্গার বিদায়বেলায় নাচছিলেন তিনি। আবেগপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, পাঁচটি দিন কীভাবে কেটে গেল বোঝাই গেল না। দেবীকে বিদায় দিতে মন চায় না; তবুও তিনি আবার আসবেন আগামী বছর, এই প্রত্যাশাতেই দেবীকে বিসর্জন দিচ্ছি।
এদিকে বসিলতায় বুড়িগঙ্গার তীরে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘাটে সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত ছিল।
এর আগে বিকেলে বিসর্জনের শোভাযাত্রা শুরুর আগে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে দেবীর চরণ ছোঁয়ানো, অঞ্জলি দান এবং সধবা নারীদের সিঁদুর খেলা। দেবীর গালে ও সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে নারীরা একে অপরের মাথায় ও গালে সিঁদুর ছুঁয়ে শুভকামনা জানান। ছোটরা মেতে ওঠে আবীর খেলায়, আর জ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে নেয় আশীর্বাদ।
দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যে এসেছিলেন ঘোটকে চড়ে এবং বিদায়ও নিলেন ঘোটকে করে। সনাতন শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এর ফলে মর্ত্যলোকে আসবে শান্তি ও শস্যশ্যামলতা, ঘুচে যাবে সব অপশক্তি ও অশান্তি।