ডেস্ক রিপোর্ট

১৬ মে ২০২৫, ১০:১৫ অপরাহ্ণ

উদীচী বগুড়ার কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে সিলেট উদীচীর মানববন্ধন

আপডেট টাইম : মে ১৬, ২০২৫ ১০:১৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বগুড়া জেলা সংসদ এর পূর্বঘোষিত সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের কর্মসূচিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের ব্যানার টাঙ্গিয়ে পরিকল্পিতভাবে বর্বরো‌চিত হামলা চালিয়ে তা ভন্ডুল করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সিলেট জেলা সংসদ এর উদ্যোগে আজ (১৬ মে, শুক্রবার) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শ‌হিদ মিনারের সম্মুখস্থ সড়‌কে এক মানববন্ধন কর্মসূ‌চি পালন করা হয়।

উদীচি সিলেটের সভাপতি প্রদীপ দেবরায় এর সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি রজত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সংগ্রামী সভাপতি কমরেড সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কমরেড খায়রুল হাছান, বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেটের সমন্বয়ক ও বাসদের সিলেট জেলা আহবায়ক কমরেড আবু জাফর, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ সিলেট জেলার সভাপতি কমরেড সিরাজ আহমদ, সিপিবি সিলেট জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনোয়ার হোসেন সুমন, শ্রমিকনেতা কমরেড উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন সিলেট জেলার সমন্বয়ক কমরেড মলয় দেব, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সিলেটের কার্যকরী পরিষদ সদস্য বিশিষ্ট নাট্যকর্মি শামছুল বাছিত শেরো, সাংস্কৃতিক সংগঠন চারণের সিলেট জেলা সমন্বয়ক নাজিকুল ইসলাম রানা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাশরুক জলিল, চারণ সংগঠক মাসুদ রানা প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের জন্য বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বগুড়া জেলা সংসদ কর্তৃক পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে গেলে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে স্বাধীনতাবিরোধী একদল দুষ্কৃতিকারী হামলা চালিয়ে তা ভন্ডুল করে দেয়। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর উপস্থিতিতেই বগুড়া সাতমাথা মুক্তমঞ্চ দখল করে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনে বাঁধা প্রদান করে। উদীচীর শিল্পী-কর্মিরা এবং উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাবৃন্দ মাইক ছাড়া সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া শুরু করলে দুষ্কৃতিকারীরা শ্লোগান দিয়ে আবারো হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। তারা শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, হামলা শেষে উদীচী জেলা কার্যালয়ের নাম ফলক খুলে ফেলে এবং জেলা কার্যালয় ভাংচুরের চেষ্টা চালায়।

উদীচীর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের কর্মসূচিতে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, প্রতি‌টি বাঙা‌লির অস্তিত্বজু‌ড়ে মু‌ক্তিযুদ্ধ, জাতীয় সংগীত আর জাতীয় পতাকা এক অনন্য উচ্চতায় আসীন। বিগত ষোল বছর ফ্যাসিস্ট সরকার এদেশের গৌরবদীপ্ত অধ্যায় মু‌ক্তিযুদ্ধ‌কে পুঁজি ক‌রে নি‌জে‌দের আখের গু‌ছি‌য়ে‌ছে। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-শ্রমিক-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালা‌তে বাধ্য হয়ে‌ছে গণহত্যাকারী অপশাসক। এই গণঅভ্যুত্থানে উদীচীর শিল্পী-কর্মিরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দৃঢ় অনুষঙ্গ ফ‌্যা‌সিস্টবিরোধী ঐতিহাসিক ‘দ্রোহযাত্রা’য় উদীচীর অগ্রগামী ও উদ্যোগী ভূমিকার কথা কারো ভুলে যাওয়ার নয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ৫ আগস্ট এক নতুন দিগন্ত উন্মো‌চিত হয়ে‌ছে জাতীয় জীব‌নে। এক‌টি সুখী সুন্দর শোষণহীন সাম্যের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে সবাই আবারো বি‌ভোর। কিন্তু শুরু থে‌কেই একাত্ত‌রের গণহত‌্যাকারী মৌলবাদী অপশ‌ক্তি তা‌দের পরাজ‌য়ের প্রতি‌শোধ নি‌তে নানা কূট‌কৌশ‌লে আমা‌দের অর্জনসমূহ‌কে বারবার বিপন্ন কর‌তে চাইছে। এজন্যেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী পরাজিত ও ঘৃণিত অপশক্তি উদীচী বগুড়া জেলা সংসদ আয়ো‌জিত সম‌বেত ক‌ণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের কর্মসূচিতে এমন বর্বরো‌চিত হামলা চালিয়েছে- যা চূড়ান্ত রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য ইন্টেরিম সরকারের প্রতি বক্তারা জোরালো আহবান জানান। নতুবা আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় সত্যিকারের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে দেশপ্রেমিক ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ও সংস্কৃতিকর্মিরা আবারো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

শেয়ার করুন