ডেস্ক রিপোর্ট

৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

শ্রমিকদের মজুরি পুণঃনির্ধারণ ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে শ্রমিক ফ্রন্টের সমাবেশ

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ৮, ২০২৩ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি বন্ধ করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, নিত্যপণ্যের বাজার মূল্য ও মুদ্রস্ফীতি বিবেচনায় সকল শ্রমিকদের মজুরি পুণঃনির্ধারণ, মজুরি আন্দোলনে শ্রমিকদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি এবং ছাঁটাই-নির্যাতন-হয়রানী বন্ধ করে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে আজ ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, শুক্রবার, বিকাল ৩ টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, ঢাকা নগরের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ঢাকা নগরের সভাপতি মোহাম্মদ রতন মিয়া’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জুলফিকার আলী ডাকা নগর সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন, মনির হোসেন মলি, আলমগির হোসেন, দাউদ আলী মামুন, লুৎফর রহমান পাকির আলী, ফজলুল হক শাহিন, আনোয়ারুল ইসলাম, রিপন মিঞা, তানভির নাঈম, শরিফুল ইসলাম দিদার প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার আই.এল.ও এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন কে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও চর্চা প্রক্রিয়া সহজিকরণসহ শ্রম পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য শ্রম আইন সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতি পালনের উদ্যোগ দেখানোর জন্য গত ২ নভেম্বর ২০২৩ শ্রম আইনের সংশোধনী পাশ করা হয়েছিল যা মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর না করে গত ২০ নভেম্বর ২০২৩ সংসদে ফেরত পাঠিয়েছে। অথচ ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি মহোদয় ফেরত দেয়ার ১৪ দিন পরেও সরকারের সচিবগণ শ্রম আইন পাশ হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলেন। পরবর্তীতে মাননীয় আইনমন্ত্রী শ্রম আইনের এই সংশোধনীটিই পরবর্তী সংসদে পাশ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

আমরা বলতে চাই যে, শ্রম আইনের সংশোধনি নিয়ে এই টালবাহানা কেন? আর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রত্যাখাত শ্রম আইনের এই সংশোধনিতে শ্রমিকদের আকাংখা প্রতিফলিত হয়নি। এই আইনে শ্রমিকদের সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধি, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন চর্চার সুযোগ, চাকরির নিরাপত্তা, চাকরির অবসানে শ্রমিকদের ন্যায্য গ্রাচ্যুয়টি পাওয়ার নিশ্চয়তা, বিভিন্ন অপকৌশলের মাধ্যমে শ্রমিকদের চাকরি থেকে অব্যহতি প্রদানের সুযোগ বন্ধ, কর্মস্থলে শ্রমিকদের প্রাণহানী বন্ধে ক্ষতিপুরণের মাত্রা বৃদ্ধি, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দাবিই পুরণ করা হয়নি। শ্রম আইনের এই সংশোধনি সম্পূর্ণ বাতিল করে স্কপ উত্থাপিত দাবিসমুহ কে অগ্রাধিকার দিয়ে শ্রম আইন কে সংশোধন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি খাতের শ্রমিকদের জীবনমান প্রতিনিয়ত নিচের দিকে নামছে। মূল্যস্ফীতির গড় হার প্রায় ১০ শতাংশ অথচ বাৎসরিক মজুরি বৃদ্ধির সুপারিশ মাত্র ৫ শতাংশ অর্থাৎ মজুরি পুণনির্ধারণের জন্য ৫ বছর অপেক্ষা মানে শ্রমিকদের মজুরি সাধারণ ভাবেই ২৫ শতাংশ কমে যাওয়া। সেখানে অনেক খাতের মজুরি ৭/৮ বছর পার হয়ে গেলেও পুণ:নির্ধারণ করা হচ্ছেনা। মজুরি বোর্ড কিছু খাতের মজুরি নির্ধারণ করলেও তাতে মজুরি নির্ধারণের মানদন্ড যথাযথভাবে অনুসৃত হচ্ছেনা। হোসিয়ারী শিল্প শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১২৮০০ টাকা, স-মিল শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ১৯ হাজর টাকা অথচ গার্মেন্টস শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ১২৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাহলে গার্মেন্টস শিল্পের সক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা কি হোসিয়ারী বা স-মিল শিল্পের চেয়ে কম? নেতৃবৃন্দ, গার্মেন্টসসহ সকল শ্রমিকদের মজুরি পুণঃনির্ধারণের আহবান জানান।

নেতৃবৃন্দ, মজুরি আন্দোলন দমনে হাজার হাজার অজ্ঞাত আসামি রেখে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা সমুহ প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের কে ন্যায্য দাবির আন্দোলন থেকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চুড়ান্ত অর্থে সফল হবেনা। নেতৃবৃন্দ মজুরি আন্দোলনে শ্রমিক হত্যার বিচার এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবার কে যথাযথ ক্ষতিপূরন প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার এবং ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করার জন্য ছাঁটাই নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন কারকানায় শ্রমিকদের ছাঁটাই করে তাদের ছবিসহ নোটিশ কারখানার দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেয়া হচ্ছে যাতে তারা অন্য কারখানায় চাকরি করতে না পারে সেই উদ্দেশ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে এই অপচর্চা বন্ধ করতে হবে।

শেয়ার করুন