ডেস্ক রিপোর্ট

৯ অক্টোবর ২০২৩, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

সিপিডি‘র মজুরি প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা, ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি

আপডেট টাইম : অক্টোবর ৯, ২০২৩ ৯:০৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: সিপিডি‘র মজুরি প্রস্তাব প্রত্যাখান করে এবং অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কমপক্ষে ২৩ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনে ক্রিয়াশীল ৫টি জোট (গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-জীস্কপ, ইন্ডাষ্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল, গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য পরিষদ) নিয়ে গঠিত গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এলায়েন্স, বাংলাদেশ।

গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এলায়েন্স, বাংলাদেশ এর পক্ষে শ্রমিক নেতা আলাউদ্দিন মিয়া, নঈমুল আহসান জুয়েল, আমিরুল হক আমিন, আবুল হোসেন, তৌহিদুর রহমান, আহসান হাবিব বুলবুল, কুতুব উদ্দিন আহমেদ, লাভলি ইয়াসমিন, বজলুর রহমান, রফিকুল ইসলাম সুজন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলেন বাংলাদেশের শ্রমিকরা সিপিডি কে একটি দায়িত্বশীল নাগরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবেচনা করে। ইতিপূর্বে সিপিডি বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা, অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদানসহ দেশের অর্থনীতির সঠিক চিত্র নাগরিকদের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে ও নতুন মজুরি ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে এবং যে মুহুর্তে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সুরক্ষায় ক্রিয়াশীল সকল শ্রমিক সংগঠনসমুহ ন্যূনতম মজুরি কমপক্ষে ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে, সেই সময় সিপিডি‘র মত একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৭৫৬৮/= টাকার অযৌক্তিক মজুরি প্রস্তাব উপস্থাপন শ্রমিকদের হতাশ করেছে। গবেষণা রিপোর্টে গার্মেন্টস শিল্পের রপ্তানী প্রবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমুল্যায়নের কারণে শ্রমিকদেও প্রকৃত মজুরির অবস্থা, প্রতিযোগী দেশসমুহে শ্রমিকদের মজুরির চিত্র, শিশুদের চাহিদাপূরণের জন্য শ্রমিকদের অপুরিত প্রচেষ্টাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকা স্বত্তে¡ও শ্রমিকদের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যহীন মজুরি প্রস্তাব সিপিডি কার স্বার্থে উপস্থাপন করলেন গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে সিপিডি পরিচালিত গবেষণার ফলাফল থেকে আমরা জেনেছিলাম পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মিটাতে ৪ সদস্যের একটি পরিবারের খাদ্য খরচের জন্য প্রয়োজন হবে ২২ হাজার টাকার বেশি। মার্চ মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের দাম কমেনি বরং মুদ্রাসফীতির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে অথচ নতুন গবেষণা রিপোর্টে খাদ্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। ৪ সদস্যের পরিবারের দুইজন সদস্য কে সম উপার্জনক্ষম ধরা হয়েছে অথচ কোনো পরিসংখ্যান প্রতি পরিবারে ২ জন উপার্জনক্ষম ব্যক্তির তথ্য সমার্তন করেনা। বাস্তবতাতেও পরিবারের নানা প্রয়োজনের ব্যাস্ততার কারণে ২ জন সদস্যের সমআয়ের সুযোগ থাকেনা। তাছাড়া মা-বাবার প্রতি যে নৈতিক এবং আইনগত দায়িত্ব রয়েছে উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় তার প্রতিফলন নেই। শিশু ভাতার ধারনাটি প্রয়োজনীয় হলেও এই ভাতাটির যুক্ততা কে যৌক্তিক করতে হলে মোট মজুরির ন্যূনতম পরিমাণ ২৩ হাজার টাকারও বেশি হতে হবে। প্রস্তাবিত মজুরিতে খাদ্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ শতাংশ। জীবনযাপনে খাদ্য ব্যয়ের উচ্চমাত্রা জীবনমানের নি¤œগামিতা নির্দেশ করে। অর্থাৎ দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশ যাদের রক্ত ঘামে অর্জীত হয় তাদের জীবনমান উন্নয়নের অধিকার থাকবেনা? তাছাড়া বৈষম্য নিরষণ ও সমতার সাংবিধানিক প্রতিশ্রæতি, এস.ডি.জি অর্জনের অকাংখা সিপিডি উত্থাপিত মজুরি প্রস্তাবনায় প্রতিফলিত হয়নি।

নেতৃবৃন্দ, মজুরি বোর্ডের ৬ মাসের সাধারণ আইনগত মেয়াদ আজকে শেষ হয়ে যাচ্ছে তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, খাদ্যপণ্যসহ সকল পণ্যেমূল্যের অসহনিয় উর্দ্ধগতির কারণে শ্রমিকদের প্রতিটি দিন অসহনিয় যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। তাই যেকোন কালক্ষেপন বিপর্যয় সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বেসিক ৬৫ শতাংশ, বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট ১০ শতাংশসহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কমপক্ষে ২৩ হাজার টাকা নির্দারণ কওে গেজেট প্রকাশের দাবি পুণরায় উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন