ডেস্ক রিপোর্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:০২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলাজনিত কারণে স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানকে হাসপাতাল পরিচালকের রুমে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমাণ্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মের আহবায়ক অহিদুল ইসলাম তুষারসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচীতে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “গতকাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলাজনিত কারণে স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানকে হাসপাতাল পরিচালকের রুমে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। হাসপাতালের পরিচালককে দ্রুত অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কারণ তিনি তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য জাতির সামনে বক্তব্য পরিষ্কার করতে হবে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অবমাননা মেনে নেয়া হবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। অন্যথায় সমগ্র দেশে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান বলেন, “সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সঠিকভাবে চিকিৎসা না দেয়ার কারণে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্ত্রীর মৃত্যুর বিচার না পেয়ে উল্টো আমাকে পরিচালকের রুমে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। আমার মেয়ে ও ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আমার এক মেয়েকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক বলেছেন, আমি কিসের মুক্তিযোদ্ধা। মারধর করে আমার মুক্তিযোদ্ধার ব্যাজ ও চশমা ভেঙ্গে নিচে ফেলা দেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্ত্রীর লাশ ও নিজের রক্তাক্ত শরীর উপহার পেলাম। যে রাষ্ট্র স্বাধীন করার জন্য একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই রাষ্ট্রের নিকট কোন বিচার পেলাম না। এখন মনে হচ্ছে আত্মহত্যা করে বিদায় নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবি, হামলা ও নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সুরক্ষা প্রদান করুন। আমি ন্যায়বিচার চাই। হামলার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা চাই।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সমগ্র বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের ওপর যেভাবে হামলা, মামলা ও নির্যাতন হচ্ছে তার স্থায়ী প্রতিকার দরকার। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে এধরনের ঘটনাগুলোর বিচার করতে হবে। টাঙ্গাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদ ছিঁড়ে ফেলা, দিনাজপুরে বিনা চিকিৎসায় বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু, রাজশাহীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান সকল ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতো না। সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠন করেনি যা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়ার শামিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোন বিচার করেনি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে অপসারণসহ জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর অপসারণের এক দফা দাবিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচী পালন করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”