ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ আগস্ট ২০২২, ৩:২৫ অপরাহ্ণ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা যাবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : আগস্ট ১৭, ২০২২ ৩:২৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: বর্তমান সংকট নিরসনে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা যাবে। কাজেই তেল আমদানির বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘ভারতসহ অন্যান্য দেশ রাশিয়া থেকে তেল আনতে পারলে আমরা কেন পারব না। তবে ওই দেশ থেকে তেল আনতে কোন মুদ্রা ব্যবহার করা হবে সেটির পথ খুঁজতেও বলেছেন। এক্ষেত্রে রুবলের সঙ্গে টাকা বিনিময়ের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের করা যায় কি না, সে উপায় খুঁজে দেখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।’ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে বরেন্দ্র এলাকায় পানি সংরক্ষণসহ ৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা যাবে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলমান মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ যে কষ্টে আছেন তা অনুধাবন করছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, মানুষ কষ্টে আছে সেটি আমি বুঝি। আমরাও আপ্রাণ চেষ্টা করছি, যাতে এ অবস্থার নিরসন হয়। এজন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। এছাড়া কৃষিতে সর্বাধিক সহায়তার নির্দেশও দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হতে চাই। বিশেষ করে খাদ্যে। এজন্য কৃষি সংশ্লিষ্ট যা কিছু আছে, অর্থাৎ বীজ, সার, পানি সেচ, কৃষিপণ্য পরিবহণ ও পরিচালন ইত্যাদি বিষয়ে সহায়তা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ভর্তুকিও দেওয়া হবে।

একনেক বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ একটু ভালো থাকতে শুরু করে তখনই দেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শুরু হয়ে যায়। ‘পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে কীভাবে নিয়ে আসতে পারি সেই ব্যবস্থা আমাদের নেওয়া জরুরি। কারণ মানুষের জন্যই তো রাজনীতি করি। মানুষ কষ্ট পেলে আমারও কষ্ট হয়।’ সাধারণের কষ্ট লাঘবে ১৫ টাকা কেজিতে ৫০ লাখ মানুষকে চাল কেনার সুবিধার পাশাপাশি প্রায় এক কোটি ‘বিশেষ পারিবারিক কার্ড’ দিয়ে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের উদ্যোগ আছে। ‘আমাদের এ ধরনের আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, সাধারণ মানুষগুলো কষ্ট না পায়।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতি এখন অনেক ভালো। আমাদের রিজার্ভ স্থিতিশীল আছে। রেমিট্যান্স উৎসাহব্যঞ্জক, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঈদের পর ৩০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এদেশে এসেছে। রাজস্ব আদায় বেড়েছে। রপ্তানিতে ভালো হাওয়া বইছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলে দাম কমছে। ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি শুরু হয়েছে। ফলে আমরা খাদে পড়ি নাই। বরং যারা ২ মাস আগেও বলেছিল আমরা শ্রীলংকা হয়ে যাচ্ছি, তাদের শঙ্কা দূর হয়েছে। আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই লোডশেডিং থাকবে না।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ব্রিফিংয়ে বলেন, আমাদের মুদ্রার সঙ্গে অন্য দেশের মুদ্রা কীভাবে সোয়াপ করা যায় সেটি ভেবে দেখছে সরকার। কেননা আমদানি রপ্তানির ব্যবধান যদি ব্যাপক হয় তবে এই পদ্ধতি কাজ করবে না। কিন্তু যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কম সেগুলোতে এটা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে আমাদের দেশে দাম সমন্বয় করা হবে। তবে এখন যেসব তেল আসছে সেগুলো বেশি দামে এলসি খোলা ছিল। কিন্তু দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০-৯৫ ডলার দামের এলসি এখনো কার্যকর হয়নি। কম দামের এলসির তেল আসতে আরও দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই বিশ্বমন্দার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বের দুটি বড় অর্থনীতিতে মন্দার ভাব দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এটা ঠিক যে, বিশ্বমন্দার দর্শন হয়তো আমরা পাব না। কিন্তু তারপরও সতর্ক থাকতে হবে। সরকার সতর্ক আছে।

শেয়ার করুন