ডেস্ক রিপোর্ট
৯ মে ২০২২, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: গত ৮ মে প্রধানমন্ত্রী মহান মে দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে শ্রমিক নেতাদের সম্পর্কে ‘কিছু শ্রমিক নেতারা বিদেশীদের কাছে নালিশ করে’ বলে যে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বি-২২০০ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস এক যুক্ত বিবৃতিতে তার প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি, শাক-সবজি, মাছ-মাংস, দুধ-ডিম, ঔষুধপত্রসহ নিত্যপণ্যে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি দফায় দফায় জ্বালানি তেল, বাড়িভাড়া-গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা অনিশ্চিয়তায় অতিবাহিত হচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা দেননি। স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বিদেশীদের কাছে নালিশ করার বিষয় অস্বীকার করে বলেন ১৮৮৬ সালে শ্রমিকরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দিয়ে ৮ ঘন্টা শ্রম দিবসের দাবি অর্জন করলেও বাংলাদেশের স’মিল সেক্টরসহ ব্যক্তিমালিকাধীন অধিকাংশ সেক্টরের শ্রমিকরা আজও ৮ ঘন্টা কর্ম দিবসের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
এমন কি আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও স্বাধীনভাবে যৌথ দরকষাষির প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার হতে শ্রমিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ শ্রমআইন-২০০৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে শতকরা ২০ ভাগ এবং প্রতিষ্ঠানে শতকরা ৩০ ভাগ শ্রমিকের সমর্থন নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার যে বিধান রাখা হয়ে তা আইএলও কনভেনশন ৮৭ এর সাথে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন দীর্ঘদিন যাবত অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন ও শ্রমবিধি প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের সংগঠন করার ক্ষেত্রে সকল ধরণের বাধা দুর করে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন ও শ্রমবিধি প্রণয়ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক হওয়ার আহবান জানিয়ে অবিলম্বে স’মিল শ্রমিকদের জন্য নিত্য মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ নিত্য মজুরি ঘোষণা করার দাবি জানান।