ডেস্ক রিপোর্ট

১ মে ২০২২, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি

আপডেট টাইম : মে ১, ২০২২ ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ ১ মে,রবিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে একটি লাল পতাকা ও বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড সহ একটি সুসজ্জিত মিছিল শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগর ভবন পয়েন্টে সমাবেশে মিলিত হয়।

জেলা শাখার সদস্য জিতু সেন এর সভাপতিত্বে ও রেজাউর রহমান রানা’র পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড উজ্জ্বল রায়, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা এডভোকেট হুমায়ুন রশীদ সোয়েব, নির্মাণ শ্রমিক নেতা রাজন দাস, চা শ্রমিক ফেডারেশন এর নেতা বীরেন সিং, অজিত রায় প্রমূখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ থেকে ১৩৬ বছর পূর্বে ১৮৮৬ সালের ১ থেকে ৪ মে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মাকের্টে ৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রাম মালিক শ্রেণির শোষণের ইমারতে কাপন ধরিয়ে দিয়েছিল। সে সময় শ্রমিককে সারা দিনরাত জুড়ে কাজ করতে হতো কোন নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ছিল না। কাজ করতে করতে কেউ কেউ কর্মক্ষেত্রেই মারা যেত। তাদের দাবী ছিল আট ঘন্টা কাজ, আট ঘন্টা বিনোদন, আর আট ঘন্টা বিশ্রাম।১৮৮৬ সালের এই দিনে শিকাগোর হে মার্কেটে প্রতিবাদ সভা আহবান করলে, সে সভায় স্পাইস, পারসন, সেমফিলডেনের বক্তৃতার পর বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরিত হয় ।এতে চার শ্রমিক ও সাত পুলিশ নিহত হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় পারসন, ফিসার, এঙ্গেলস ও স্পাইসকে। এর তিন বছর পর ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের নেতৃত্বে প্যারিসে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট আর্ন্তজাতিকের দ্বিতীয় সম্মলনে ১ মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস ঘোষণা করে সেই সময় থেকে এই দিনটি গভীর মর্যাদায় সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।
কিন্তু আমাদের দেশে ১৩৬ বছর পরেও কৃষি শ্রমিক থেকে হোটেল, পরিবহন খাতসহ অপ্রাতিষ্ঠনিক কোনো শ্রমিকই আট ঘন্টা কর্মদিবসের অধিকার পায় না। আমাদের ইনফর্মাল সেক্টরে যেখানে কমবেশী পাঁচ কোটি শ্রমিক কাজ করে তাদের কোন আট ঘন্টা কর্মদিবস নেই। ভোর থেকে রাত বারটা অবধি কাজ করতে হয় হোটেল শ্রমিকদের, পরিবহন শ্রমিকরা এক নাগারে দিনে রাতে তিনদিনও কাজ করতে বাধ্য হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা ১৪,১৮,এমনকি ২২ঘন্টা র্পযন্ত কাজ করার নজির আছে। মে দিবসের অঙ্গিকার হোক শ্রমিকের বেঁচে থাকার মত নুন্যতম জাতিয় মজুরী বিশ হাজার টাকা দিতে হবে। এই দাবি আজ সকলের দাবীতে পরিনত হয়েছে। প্রায় সবগুলি ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন আজ শ্রমিকের নুন্যতম মজুরী বিশ হাজার টাকা চায়।

আমাদের দেশের অনেক শ্রমিক জানে না মে দিবস কি? মালিকরা কিংবা সরকারী প্রতিষ্ঠানে, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান সমূহে মে দিবসকে অনুষ্ঠান সর্বস্বতায় পরিণত করেছে। তাই এ প্রসংগে একটা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা প্রয়োজন।

বছরের একদিন শ্রমিকের কথার বা শ্রমিক দিবস কথার র্অথ হলো শ্রমিকের শপথ নেওয়ার একদিন আর সংগ্রাম করে লড়াই করে দাবী আদায় করার দিন সারা বছর। সুতরং মে দিবস হলো দাবী আদায়ের শপথ নেবার দিবস। ।মে দিবসের চেতনা হলো মালিকের বিরুদ্ধে শ্রমিকের রক্তক্ষয়ি লড়াই এর চেতনা । মালিকের বিরুদ্ধে শ্রমিককে নিরন্তর সংগ্রাম করে দাবী আদায় করতে হবে। মে দিবস সেই সংগ্রামেরই প্রেরনা দেয়।

এ বছর ঈদের পূর্বে শ্রমিকদের সকল বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের দাবি করা সত্ত্বেও বিভিন্ন গার্মেন্টসে পরিশোধ করা হয়নি বরং পুলিশ শ্রমিকদের লাঠিপেটা করেছে, রক্তাক্ত করেছে।নেতৃবৃন্দ মে দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শোষণের বিরুদ্ধে সকল শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহবান জানান।

শেয়ার করুন