ডেস্ক রিপোর্ট

২১ অক্টোবর ২০২১, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ছাত্র ফ্রন্ট চবি শাখার বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২১, ২০২১ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :: দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ও হামলার সাথে যুক্ত ব্যাক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় আজ সকাল ১১টায় ক্যাম্পাসের চাকসু ভবনের সামনে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ, সদস্য শাহনাজ মুন্নি ও দেবরঞ্জন দেব।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নগর কমিটির সভাপতি রায়হান উদ্দিন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যেই সাম্প্রদায়িক হামলা তা মোটেই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এগুলো পূর্বপরিকল্পিত এবং হীন রাজনৈতিক স্বার্থ এর সাথে জড়িত। এর আগেও আমরা একিরকম হামলা লক্ষ্য করেছি পাবনা, রামু, শাল্লা, বাশখালীসহ দেশের আরও বিভিন্ন স্থানে। গত ৯ বছরে শুধুমাত্র হিন্দু মসম্প্রদায়ের উপরই হামলা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার বারের বেশী। কিন্তু এই হামলাগুলোর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের খুব বেশী দৃষ্টান্ত আমরা দেখিনি। এসকল হামলা ও শাসকগোষ্ঠীর নীরবতা দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তথা দেশের আপামর সাধারণ জনতার জন্য উদ্বেগজনক।
দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় তাদের সময় পার করছে।

আমরা বারবারই দেখেছি শাসকগোষ্ঠীসহ অন্যান্য বুর্জোয়া দলসমূহ তাদের নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন মৌলবাদী শক্তিকে তাদের সাথে রেখেছে। অন্যদিকে আমরা দেখেছি পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমেও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প প্রবেশ করিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে কিভাবে কূপমন্ডুক চিন্তা তাদের মননে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

আমরা মনে করি এ সাম্প্রদায়িক হামলা এবং বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর এই উত্থান স্বাধীনতার মৌলিক মনস্তত্বের সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা সেদিন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য লড়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসেও সেই একিরকম হামলা ও সাম্প্রদায়িক মনস্তত্ত্ব আমরা প্রত্যক্ষ করছি।
সমাবেশে বক্তারা দাবি জানান, অবিলম্বে এসকল হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তি ও এর মদদদাতাদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দায়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনীতি এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

শেয়ার করুন