ডেস্ক রিপোর্ট
১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
আল কাদেরী জয় ::
শাসকগোষ্ঠী ভয় পায় জনগণের সচেতনতা ও সংঘবদ্ধতা।লুটপাট,দূর্নীতি ও গণতন্ত্রহীনতায় আকন্ঠ নিমজ্জিত সরকার জনগণের কন্ঠরোধ করতে চায় ভোট ডাকাতির এই সরকার।তাই সে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,দলীয় সন্ত্রাস ও প্রশাসননিক দমনপীড়নের রাস্তা বেছে নেয়।এই দূর্বৃত্তায়িত রাজনীতি জন্ম দিয়েছে মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে শাসকদলগুলোর নির্লজ্জ আঁতাত।
স্বাধীনতার গত ৫০ বছরে এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তিগুলোকে বড় করে তোলা হয়েছে ক্ষমতার ছত্রছায়ায়।
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করে ধূলিস্যাৎ করা হয়েছে স্বাধীনতার মৌল চেতনা।৪র্থ,৫ম,৮ম সংশোধনীসহ নানা সাম্প্রদায়িক ও স্বৈরাচারী কালাকানুনে গোঁজামিলের দলিলে পরিণত হয়েছে দেশের সংবিধান।অর্পিত সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে পাকিস্তানি আমলের শত্রু সম্পত্তির বিধান রাখা হলো যার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মের জনগণের সম্পত্তি লুটপাটকে জায়েয করা যায়। তাদের কাছে হিন্দুরা দেশে থাকলে দেবে ভোট,আর দেশ ছেড়ো চলে গেলে দেবে জমি! এই তো হচ্ছে আজ ক্ষমতাসীন আঃলীগ ও বিএনপি-জামাতের রাজনীতি। এই জায়গায় তাদের মধ্যে কোন তফাত নাই! যেন একই পয়সার দুই পিঠে বসে থাকা দুই মার্কা!
আজ ধর্ম দিয়ে দেশের মানুষকে বিভক্ত ও দমন করা হচ্ছে স্বৈরাচারী শাসকদলের নীতি।সেই ইংরেজরা যেমন ৪৭ সালে করেছিলো divide and rule- ভাগ কর,আর শাসন কর! তেমনি আজো ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে হিন্দু জনগণের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক ভয় আর মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক উম্মাদনা! আর এদেশের জনগণের হিন্দু জনগণের উপর এই নিপীড়ন থেকে ফায়দা নিতে চায় বাংলাদেশ ও ভারত- দু-দেশের ক্ষমতায় আসীনরা,ঘোলা পানিতে যেমন অনেকেই ফায়দা নিতে চায়!
আজ দেশে এই সাম্প্রদায়িক হামলা, হত্যা,সন্ত্রাস একদিনে হয় নি।বরং পুরোটাই ঘটানো হয়েছে পরিকল্পিতভাবে।
পাবনা, রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শাল্লাসহ নানা জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলাকারীরা কোনো বিচার আজ পর্যন্ত হয় নি।তার সাথে যুক্ত হয়েছে আজকের কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় পূজা মণ্ডপে হামলা। সাঁওতাল আদিবাসী গ্রামে তৌহিদী জনতার আগুন ছড়িয়ে পড়েছে রংপুরের পীরগঞ্জের জেলে সম্প্রদায়ের গ্রামে! কিন্তু কতদিন আর এসব চলবে? এরজন্য স্পষ্টভাবে সরকার ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মদদ ও উস্কানিযুক্ত।এর দায় সরকার ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনোভাবেই এড়াতে পারে না!
আজ সময় এসেছে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার! সময় এসেছে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাবার! তাই আসুন মুক্তির মিছিলে,গলা মেলায় প্রতিবাদের শ্লোগানে…!
লেখক : কেন্দ্রীয় সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।