ডেস্ক রিপোর্ট
৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: আওয়ামী লীগের বিবদমান তিন পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা শহরে সোমবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সদর উপজেলার মাইজদী শহর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।
রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় জেলা প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
১৪৪ ধারা চলার সময় মাইজদী শহর ও আশপাশ (মাইজদী, দত্তেরহাট, সোনাপুর) এলাকায় মধ্যে ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গণজমায়েত, সভা, সমাবেশ, মিছিল, র্যালি, শোভাযাত্রা, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সব এলাকায় চারজনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবে না।
রোববার বিকেল ৫টার দিকে সোমবারের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে মাইজদী শহরের টাউন হল মোড়ে ৩টি গ্রুপের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টুর নেতৃত্বে সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর সমর্থকরা গত ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর-জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঘোষিত কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবিতে সোমবার সকাল ১০টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সভা আহ্বান করেন।
একই সময় একই স্থানে আগামী পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মিসভা আহ্বান করেন নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেল, অন্যদিকে একই সময় টাউন হল চত্বরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে জনসভার ডাক দেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন।
এসব সভা আহ্বানকে কেন্দ্র করে তিনটি পক্ষই তাদের স্ব স্ব কর্মসূচির সমর্থনে বিকেলে টাউন হল মোড়, জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জড়ো হয়।
নোয়াখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু দেশ রূপান্তরকে জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের ঘোষিত কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবিতে সোমবার সকাল ১০টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আমাদের পূর্বঘোষিত সভা সফল করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগ, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতকর্মীরা রোববার মিছিলের আয়োজন করি। আমাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমরা কেবল পূর্ণাঙ্গ কমিটি চাই। তারা আমাদের কর্মসূচিকে বানচাল করা জন্য ইচ্ছে করে গায়ে পড়ে ভেজাল করতে চায়।
এ বিষয়ে জানতে নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান সেহেলের ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা আয়োজনের সমর্থনে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রচার শোভাযাত্রায় নোয়াখালী সদর থানার ওসি সাহেদের নেতৃত্বে হামলা ও লাঠিচার্জ করা হয়েছে। আজকের টোটাল ঘটনার জন্য ওসি সাহেব দায়ী। আমাদের সোমবার প্রোগ্রাম বাতিল করার জন্য এবং একজন ওসি কীভাবে একটি সংসদীয় এলাকায় আট বছর থাকে। আমরা তার বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদর থেকে প্রত্যাহার চাই।
সুধারাম মডেল থানার ওসি সাহেদ উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কিছুদিন থেকে জেলা আওয়ামী লীগ ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। এভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহীদ উল্যাহ খান সোহেল ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীনের অনুসারীরা আলাদাভাবে নিজেদের কর্মসূচি পালন করে আসছে।
একপর্যায়ে বিবদমান তিনটি গ্রুপের অনুসারী নেতাকর্মীরা তাদের সোমবারের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি সফল করতে রোববার বিকেল থেকেই জেলা শহরে অবস্থান নেয়। এ সময় তিন গ্রুপের অনুসারী নেতাকর্মী জেলা শহরে পথ সভা, মিছিল করলে ত্রিমুখী উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।