ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ আগস্ট ২০২১, ৮:২৪ অপরাহ্ণ

বরিশালে ইউএনও-মেয়র সংঘর্ষ: হিসাব মেলেনি আনসার সদস্যদের ছোড়া গুলির

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৪, ২০২১ ৮:২৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে বরিশালে ইউএনওর বাসভবনে হামলা, আনসার-পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) ষষ্ঠ দিন অতিবাহিত হলেও হিসাব মেলেনি আনসার সদস্যদের ছোড়া গুলির।

ঘটে যাওয়া ঘটনার চার দিনের মধ্যেই সমঝোতা হয়েছে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের। এখন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা আটক ১৮ জনের জামিন নিতে কাজ করছে আইনজীবীরা। এটিও দ্রুত হবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র।

ওই দিন ইউএনওকে হামলার হাত থেকে রক্ষায় আনসার সদস্যরা কত রাউন্ড গুলি করেছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না আনসার বা পুলিশ কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট রাতে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে ইউএনওকে হামলার হাত থেকে রক্ষায় তিন দফা গুলিবর্ষণ করেন ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের ছোড়া শটগানের গুলিতে চোখ হারিয়েছেন নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনিরুল ইসলাম মুনির ও কাশিপুর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আতিকুর রহমান রায়হান। তারা ছাড়াও অন্তত ৬০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

তবে সেদিন রাতে কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল সেই হিসাব দিতে পারছেন না আনসার সদস্যরা।

এ প্রসঙ্গে আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট আমমার হোসেন বলেন, ‘আনসার সদস্যরা কত রাউন্ড গুলি করেছে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পর পরই আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ২৩ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তদন্ত কাজ শেষ করতে না পারায় প্রতিবেদন জমা দিতে আরও দু-একদিন লাগবে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। রিপোর্ট পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান দাবি করেছেন তিনি আনসার সদস্যদের গুলির নির্দেশ দেননি। তাহলে আনসার সদস্যরা কার নির্দেশে গুলি ছুড়েছিল এসব বিষয় স্পষ্ট হতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে। তাছাড়া এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দু’জন আনসার সদস্য এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ফারুক গাজীর পায়ে গুলি লেগেছে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাহাতাব নামের অপরজন বরিশালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন’।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘১৮ আগস্ট রাতের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সদস্যরা কোনো গুলি ছোড়েনি। কেন না গুলিবর্ষণের কোনো অনুমতি ছিল না। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা শুধু লাঠিচার্জ করেছিল। এসময় পুলিশের চারজন সদস্য আহত হন।

উল্লেখ্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে হামলা, সংঘর্ষ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় পাল্টা পাল্টি চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ইউএনও এবং পুলিশের করা দুটি মামলায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান করে ৬০২ জনকে আসামি করা হয়।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন এবং সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদারের করা পৃথক দুটি মামলার আবেদনে ইউএনও মুনিবুর রহমান ও কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

পাল্টা পাল্টি মামলা দায়েরের পরে ২২ আগস্ট রাতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদলের মধ্যসস্থতায় আওয়ামী লীগ এবং প্রশাসনের ‘মিটমাট’ হয়। বর্তমানে কারাগারে আটকে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের জামিনে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ.কে.এম জাহাঙ্গীর।

শেয়ার করুন