ডেস্ক রিপোর্ট
১৭ জুলাই ২০২১, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মতিঝিলের ৯নং রাজউক এভিন্যুউ’র ওভারসীজ রিক্রটিং এজেন্সীর মাধ্যমে সৌদি আরবে যায় মালা। স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করার আগেই নিদারুণ প্রতারণার শিকার হয় সে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরে তাকে হোটেলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে এবং যৌন কাজ করার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে সেখানকার কিছু ব্যক্তি। পরবরতিতে তাকে স্থানান্তরিত করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে রাখে। এক সপ্তাহ পরে অনেক কষ্টে গোপনে সে পরিবারের কাছে তার নির্যাতনের কথা জানায় এবং তাকে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করতে বলে।
পরিবার রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের সাথে যোগাযোগ করে সকল ঘটনা খুলে বলে এবং তাদের সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করে। মালা তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্নসম্বলিত ছবি অন্যের মোবাইলের ইমো নাম্বার থেকে পরিবারকে পাঠায় এবং আবারও তাকে উদ্ধারের আবেদন জানায়। ফোন ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় তার সাথে পরিবারের যোগাযোগ করা সম্ভব নয় বলে পরবর্তিতে তার কি পরিস্থিতি তা জানা যায়নি।
এই সব ঘটনা রিক্রুটিং এজেন্সী এবং বাপ্পী দালালকে জানানোর পর তারা বিষয়টি অবহেলার দৃষ্টিতে দেখে। তাদের বক্তব্য মালা সেখানে থাকতে চায়না বলে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। তারপারও তাকে যদি দেশে আনতে হয় তবে ৩,০০০,০০ (তিন লক্ষ টাকা) টাকা দিলে তারা আনার ব্যবস্থ্যা করবে। এখানে উল্লেখ্য সৌদি আরবে গৃহকমীর্দের কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন খরচ না লাগলেও মালাকে সৌদি আরবে পাঠানোর ক্ষেত্রে তার পরিবার বাপ্পী দালালকে ৩,০০০,০০/= টাকা প্রদান করে। রিক্রুটিং এজেন্সীর কোনরূপ আশ্বাসি না পেয়ে শোকে মুহ্যমান মালার মা। এই ঘটনায় নারায়নগঞ্জ কোর্টে একটি মামলা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মালার মার একটাই দাবি তার মেয়েকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। এবং যে রিক্রুটিং এজেন্সীর অবহেলার কারণে মালা এই নির্মম প্রতারণার শিকার হল সেই রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের বিচার হোক যাতে ভবিষ্যতে আর কোন মেয়ের জীবন এভাবে নষ্ট না হয়।