ডেস্ক রিপোর্ট
১০ জুলাই ২০২১, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সজীব গ্রুপের মালিকানাধিন হসেম ফুড এন্ড বেভারেজের কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপুরণ দাবি করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। আজ শনিবার (১০ জুলাই ২০২১) শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচী থেকে এই দাবি জানায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বলা হয়, সজীব গ্রুপের মালিকানাধিন হসেম ফুড এন্ড বেভারেজের কারখানায় অগ্নিকান্ডে কমপক্ষে ৫২ জন শ্রমিক হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার করা এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা -ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন ও শ্রম আইনের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্তধারাসমূহ সংশোধন করতে হবে।
স্কপ যুগ্ম সমন্বয়ক নুর কুতুব মান্নান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন অপর যুগ্ম সমন্বয়ক সহীদুল্লাহ চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, রাজেকুজ্জামান রতন, সাইফুজ্জামান বাদশা, সাকিল আক্তার চৌধুরী, খলিলুর রহমান, আহসান হাবিব বুলবুল, ফিরোজ হোসেন, রফিকুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান লিপন, সরদার খোরশেদ, প্রকাশ দত্ত প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সজীব গ্রুপের মালিকানাধীন ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে কোম্পানিটি ৩০ বছর যাবত ব্যবসা করছেন। কোম্পানিটি এশিয়া, আফ্রিকা, পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করেন। অগ্নিকান্ডের পরে জানাযায় ৬ তলা কারখানা ভবনের কোন ফ্লোওে অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা নেই। অগ্নিকান্ডের সময় চতুর্থ তলার জরুরী নির্গমণের পথটি ছিল তালাবদ্ধ। নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশই শিশু শ্রমিক। আইন অনুযায়ী কারখানার প্রতিটি ফ্লোরেই জরুরী নির্গমনের রাস্তা, অগ্নিনির্বপনের ব্যবস্থা এবং উৎপাদনের সময় প্রতিটি গেট খোলা থাকতে হবে। আইন লঙ্ঘন এবং অব্যবস্থাপনার কারনেই এতজন শ্রমিককে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ফলে অগ্নিকান্ডে ৫২ জনের অধিক শ্রমিকের মৃত্যু কোন দৃর্ঘটনা নয়, এটা অবহেলাজনিত এবং কাঠামোগত হত্যাকান্ড। শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য ডাইফ, ফায়ার সার্ভিস, স্থাপনা তদারকি সংস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের অনেকগুলি দপ্তরযুক্ত।
নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রাখেন, অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা ছাড়া, বিল্ডিং কোড অনুসরণ ছাড়া, আইন না মেনে কারখানা পরিচালনার অনুমোদন কিভাবে পেল? নেতৃবৃন্দ বলেন, কারখানা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণও সমভাবে দায়ি। নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক তদন্ত নয় বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক দায়িত্ব অবহেলার জন্য দায়ি প্রত্যেককে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার করার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ, নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার প্রতি আজীবন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেন, শিল্প দুর্ঘটনা বন্ধ করতেই শ্রম আইনের ১৫১ নং ধারা এবং পঞ্চম তফসিলকে আই.এল.ও কনভেনশন ১২১ অনুসারে সংশোধন করতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে যুগ্ম সমন্বয়ক সহীদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্কপ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের বৈঠক শ্রমিক ফ্রন্ট কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে সাকিল আক্তার চৌধুরী ও আহসান হাবিব বুলবুল এর নেতৃত্বে রফিকুল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন, প্রকাশ দত্ত, কনক বর্মন, কাজী রুহুল আমিন, মো: রফিকসহ ৯ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংশ কমিটি গঠন করা হয়। এবং ১২ জুলাই সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিটে ক্রিয়াশীল সকল শ্রমিক সংগঠনের সাথে অনলাইনে মতবিনিময় সভা এবং ১৫ জুলাই সকাল ১১ টায় শ্রমমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংশ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে গণতদন্ত কমিশন গঠন, আইনজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী পালন করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।