ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ জুন ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ণ

৪ দফা দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

আপডেট টাইম : জুন ৩০, ২০২১ ১১:১৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: লকডাউনের নামে শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংসের পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে ৩০ শে জুন, বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লকডাউনে শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য রেশন চালু করা, ঈদের আগে সকল শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা, সর্বস্তরের জনগণের জন্য করোনার টিকা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলটি সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

তার আগে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈমের সঞ্চালনায় রাজু ভাষ্কর্যে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক তামজীদ হায়দার চঞ্চল, ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সংসদের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়।

বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত না করে লক ডাউনের ঘোষণা শ্রমিক স্বার্থবিরোধী। অথচ এই শ্রমিকদের রক্ত পানি করা শ্রমেই পুরো দেশের অর্থনীতি টিকে থাকে; মন্ত্রী, এমপি, আমলাদের বেতন হয়। সমাবেশে ছাত্র নেতারা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের গরীব, মেহনতি মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে লকডাউনের নামে বড়লোকের স্বার্থ রক্ষার যে পাঁয়তারা সরকার করছে, তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে। শ্রমিকের রক্ত আর ঘামের সাথে বেঈমানী করবার পরিণতি সুখকর হবে না। একদিকে লকডাউন, শাট ডাউনের ঘোষণা আর অন্যদিকে গার্মেন্টস, কারখানা খুলে রেখে মুনাফা ঠিক রাখবার ইন্তেজাম! সশস্ত্র বাহিনী নামিয়ে চোখ রাঙানির আয়োজন তো আছেই। যে মানুষটি দিন আনে দিন খায়, তাঁকে যদি ৭ দিন ঘরে বসে থাকতে হয় তবে তাঁর দুবেলা খাবার জুটাবে কে? পর্যাপ্ত রেশন হতে পারত সমাধান। আমরা চাই, করোনার সংক্রমণ রোধ করতে সরকার জনগণের জীবন-জীবিকাকে আমলে নিয়ে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিবেন। রেশনের বন্দোবস্তের পাশাপাশি আসন্ন ঈদের আগে সকল শ্রমিকের পাওনা বেতন ভাতা পরিশোধ করবার কোন বিকল্প নেই।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা মহামারীর সুযোগ নিয়ে মানুষের প্রতিবাদ করবার অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা বারবার আমাদের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে। মতের অমিল হলেই, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ২৮ জুন দিবাগত রাতে বগুড়া দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া সুনামগঞ্জের ঝুমন দাস এখনো জামিন পাননি। আমরা অবিলম্বে এই নিবর্তনমূলক আইনটি বাতিল এবং এই আইনের আওতায় গ্রেপ্তারকৃত সকলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

 

শেয়ার করুন