ডেস্ক রিপোর্ট

২৩ জুন ২০২১, ১০:০০ অপরাহ্ণ

ব্যাটারি রিকশা -ভ্যান উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ

আপডেট টাইম : জুন ২৩, ২০২১ ১০:০০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: করোনা দুর্যোগের এই দুঃসময়ে মোটর চালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইক উচ্ছেদ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাবিবউল্লা বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম।

নেতৃবৃন্দ এক যুক্তবিবৃতিতে বলেন বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলায় কর্মহীন শ্রমজীবী জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষার পরিবর্তে সরকার মোটর চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক, নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু’র উপর নির্ভর লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী জনগণের জীবনধারণকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

করোনাকালে গত এক বছরে নতুন করে আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন এবং ৬২ শতাংশ শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। এরকম সময়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন। সরকার ব্যাটারি চালিত এসকল রিকশা-ঠেলা ও ইজিবাইক বিক্রিতে কোন বাঁধা দেয়নি। এখন দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, ঋণ করে মোটর চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক, নসিমন-করিমন-আলমসাধু কিনে যখন আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন সরকার যানজট ও দূর্ঘটনার অজুহাত তুলে এই বাহনগুলো উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ঢাকা শহরের যানজটের মূল কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা, অবৈধভাবে রাস্তা দখল, অবৈধ পার্কিং ও সড়কে প্রাইভেট গাড়ির দৌরাত্ম।

সরকার শ্রেণিস্বার্থে এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে গরিব মানুয়ের উপর খড়গ হস্ত হয়েছে। এর আগে দূর্ঘটনার অজুহাত তুলে মহাসড়ক থেকে তিন চাকার যানবাহন উচ্ছেদ করা হলেও মহাসড়কে দূর্ঘটনা কমার কোন তথ্য সরকার দিতে পারেনি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে গত মে মাসে সারাদেশে ৪৪১ টি সড়ক দূর্ঘটনায় ৫৬২ জন নিহত এবং ৫৪৯ জন আহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়, যেখানে সবচেয়ে বেশি(২১৭ জন) মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন সরকার সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বসংস্থা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য(এসডিজি) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদের হাতের তুলে দিচ্ছে। মূলত সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহ থেকে আমদানির লক্ষ্যে নতুন ধরনের(চার চাকার) যাহবাহনের বাজার সৃস্টির জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে এই পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে-এর সাথে সম্পর্কিত হচ্ছে রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদের তৎপরতা।

মোটর চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক, নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু’র ব্যবহারিক উপযোগিতার কথা তুলে ধরে বলেন বর্তমান আধুনিক সমাজে মানুষ হয়ে মানুষকে টেনে নেওয়ার পরিবর্তে মোটরের সাহায্যে চালিত এই সকল পরিবহণে যেমন চালকের শারিরিক শক্তি কম লাগে তেমনি যাত্রী ও মালামাল পরিবহণে সময় ও ভাড়াও কম লাগে। তাই উচ্ছেদ নয়; প্রয়োজন সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করে এই সকল পরিবহণের আধুনিকায়ন করা।

নেতৃবৃন্দ মোটর চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক, নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু উচ্ছেদ বন্ধ, সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করে এই সকল পরিবহণের আধুনিকায়ন করা এবং লাইসেন্স প্রদান, সকল সড়কে আলাদা লেন তৈরি, পরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, অবৈধভাবে রাস্তা দখল ও পার্কিং উচ্ছেদ ও সড়কে প্রাইভেট গাড়ির দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণ করে গণপরিবহণ ব্যবস্থা জনপ্রিয় করার দাবি জানান।

 

শেয়ার করুন