ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ আগস্ট ২০২১, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ এর নামে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বাসদ সদর উপজেলা কার্যালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ ও রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসানসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপর হামলা ও অফিস ভাংচূড়কারী চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরসহ সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ব্যাটারি রিকশা বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ শনিবার সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা ফোরামের সদস্য, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্র্ধসঢ়;ন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, সংগ্রাম পরিষদের গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, সদস্য সচিব
ফজলুল হক, ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার আহ্বায়ক মিজানুর রহমান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মাসদাইর চৌধুরী কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত বাসদ সদর উপজেলা কার্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভা চলাকালে চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরে নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসী মিলিতভাবে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর করে ও অফিসের আসবাবপত্র ভাংচূড় করে। সন্ত্রাসীরা অফিসে প্রবেশ করে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফের কাছে ৭ লাখ টাকা ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে শরীফকে হত্যা করবে এবং অফিস উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি দেয়। শরীফ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সন্ত্রাসীরা শরীফসহ উপস্থিত নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায় এবং এলোপাথারী মারধর করে ও অফিসের ভিতরে ভাংচূড় চালায়। এতে মারাত্মক আহত হয় রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঝুটসন্ত্রাসী সুমন ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর বিএনপি-জামাতের শাসনামলে মাসদাইর-গাবতলী এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিল। সুমনের নামে বহু সন্ত্রাসী মামলা আছে, বিভিন্ন মামলায় জেল খেটেছে এবং মাদকের সাথে যুক্ত। বর্তমানে সুমন ও জাহাঙ্গীর মুখোশ বদল করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের রাস্তাঘাটে হয়রানি করে, এলাকায় চাঁদাবাজি করে। জাহাঙ্গীর ইন্টারনেট জুয়ারি চক্রের সাথে জড়িত এবং চাঁদাবাজিসহ এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে যুক্ত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসনের নির্বিকার ভুমিকার কারণেই এসব সন্ত্রাসীরা আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাসদ অফিসে হামলার পর মামলা হলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। সন্ত্রাসী সুমন ও জাহাঙ্গীর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমাদের সংগঠনের কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের নির্বিকার ভূমিকার সুযোগ নিয়ে সুমন ও জাহাঙ্গীর পৃথকভাবে সমাজাতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফের নামে কোর্টে ষড়যন্তমূলকভাবে ২টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালে চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় সরকার দুর্ঘটনার কথা বলে ব্যাটারি রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লকডাউনের পূর্বে বিভিন্ন স্থানে ব্যাটারি রিকশা ভেঙে দেয়া, আটক কর, জরিমানা করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে লকডাউন শেষে এখন আবার ব্যাটারি রিকশা বন্ধের কার্যক্রম শুরু হবে। ব্যাটারি রিকশা বন্ধ হলে লাখ লাখ লোক কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। বৈজ্ঞানিক উপায়ে রিকশার ডিজাইন পরিবর্তন করে তাদের লাইসেন্স প্রদান করলে বিরাট সংখ্যক মানুষকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
নেতৃবৃন্দ ব্যাটারি রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, রিকশার নেতা মেহেদীর উপর হামলাকারী চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরসহ সকল
সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তি এবং শ্রমিক নেতা বিপ্লব, সেলিম ও শরীফের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।