ডেস্ক রিপোর্ট
৫ জুন ২০২১, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজি ও দালালপুঁজির স্বার্থে প্রণীত ২০২১-২২ অর্থবছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কীনব্রিজ পয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু হয়ে সিলেট মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার অন্যতম নেতা একে আজাদ সরকার।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার দফতর সম্পাদক রমজান আলী পটুর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শহর পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছাদেক মিয়া, সিলেট জেলা স’মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আইয়ুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম-আহবায়ক নাজমুল হোসেন, ছাত্রনেতা শান্ত আজাদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন বাংলাদেশের মত নয়া উপনিবেশিক দেশসমূহে বাজেট সকল সময়ই জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী হয়ে থাকে। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বসংস্থাসমূহের নীতি-নির্দেশের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে এসডিজি ঘোষণার পর থেকে আমাদের দেশের বাজেট প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির সর্বোচ্চ লুন্ঠন ও তার এদেশীয় দালালদের অবাধ লুটপাটের পথকে আরো বেশি প্রশস্ত করা হয়েছে।
এ বছরের বাজেটেও গতানুগতিক ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করায় লাভবান হবে বা হয়ে চলেছে প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার ধারক-বাহক ও কায়েমী স্বার্থবাদীরা। তার জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি ছিল ৫ জন আর বর্তমানে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র মতে কোটি টাকার বেশি জমা থাকা আমানতের সংখ্যা ৯৩,৮৯০টি। এই পরিসংখ্যান থেকে বুঝা যায় প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জাতীয় বাজেটের সুফল ভোগকারী কারা। ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মত মৌলিক অধিকারকে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজি ও দালাল পুঁজির মুনাফার স্বার্থে বাজারি পণ্যে পরিণত করে চলেছে। করোনাকে পুঁজি করে স্বাস্থ্যখাতকে গুরুত্ব দেওয়ার নামে গণস্বাস্থ্যকে আড়াল করে বাজেটে যে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফলে অবকাঠামো নির্মাণ ও চিকিৎসা সরমঞ্জাম ক্রয়ের নামে স্বাস্থ্যখাতে চলমান লুটপাটকে আরো তরান্বিত করবে। একইভাবে কৃষিতে আধুনিকায়নের নামে একচেটিয়া লগ্নিপুঁজি ও দালাল পুঁজির স্বার্থে কৃষিখাতে বেপরোয়া লুটপাট করতে মূলত কৃষি উপকরণে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে করের জাল বিছিয়ে দিয়ে ব্যাপক জনগণকে করের জালে আটকিয়ে কায়েমীস্বার্থে সর্বাত্মক লুটপাটের আয়োজন চলছে।
১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা আর ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ৬,০৩,৬৮১ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ৫০ বছরে বাজেট বৃদ্ধির হার ৭৬৮% আর মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ হচ্ছে ২৩,৪২৪ টাকা। আজকের বাস্তবতা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে বাজেটের আকার-প্রকার বাড়লেও বাড়েনি শ্রমিক-কৃষক তথা ব্যাপক জনগণের জীবন-জীবিকার মান। তারই নগ্য চিত্র হচ্ছে করোনকালীন সময়ে চিকিৎসাহীন হয়ে মৃত্যুবরণ করা আর টিসিবি’র ট্রাক সেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় মানুষের সারিতে মধ্যবিত্তের অপেক্ষার পালা।
বাজেটকে জাতীয় ও জনস্বার্থমুখী করতে জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অগ্রসর করার লক্ষ্যে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের প্রতি উদাত্ব আহ্বান জানান।