ডেস্ক রিপোর্ট

৯ জুন ২০২১, ৬:৫২ অপরাহ্ণ

সংস্কৃতি খাতে বাজেটের ১ শতাংশ দাবি করে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিবৃতি

আপডেট টাইম : জুন ৯, ২০২১ ৬:৫২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় ইনচার্জ নিখিল দাস আজ ৯ জুন ২০২১ এক বিবৃতিতে বলেন, গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পেশ করেছে।

এই বিশাল বাজেটের সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ মাত্র দশমিক শূণ্য ৯৭ শতাংশ। এতে সারাদেশের সংস্কৃতি কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত সব মহল হতাশ হয়েছে। একদিকে সরকারের উচ্চ মহল বলছে মৌলবাদকে প্রতিহত করতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বাড়াতে হবে। অথচ সংস্কৃতিতে এত কম বরাদ্দের সাথে তাদের বক্তব্য অসঙ্গতিপূর্ণ।

এক সময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রা-কবিগান-নাটক-জারি গান-সারি গান ইত্যাদির ব্যাপক প্রচলন ছিল। আজ মৌলবাদী তৎপরতায় এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ার এইগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাউলরা প্রতি পদে পদে আক্রান্ত হচ্ছেন। শরীয়ত বাউল কে জেলে যেতে হয়েছে। এক সময় বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে লোক কবিদের ব্যাপক আধিপত্য ছিল। লোকসংস্কৃতির প্রাধান্যই মৌলবাদী সংস্কৃতিকে বাড়তে দেয় নি।

আজ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও লোকজ বাংলা সংস্কৃতির সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ মৌলবাদের উত্থান এর জমিন তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্দেশে দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ হচ্ছে অথচ সংস্কৃতি জনদের দাবি প্রতি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স অনুমোদন হয় না।

এই করোনাকালে প্রচুর বাউলসহ প্রান্তিক সাংস্কৃতিক কর্মীরা বেকার হয়ে গিয়েছে। অনেকে বাদ্যযন্ত্র বিক্রি করে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদের প্রতি সরকারের কোন প্রণোদনা নেই। মৌলবাদী সংস্কৃতি ও আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে নারী শিশু নির্যাতন, মাদকাসক্তি, অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে, সমাজে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। তাই আজ দেশজ অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি বিকাশের স্বার্থে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১ শতাংশ বরাদ্দ সময়ের দাবি। নামমাত্র অনুদান দিয়ে সর্বগ্রাসী সংকট থেকে জাতিকে রক্ষা করা যাবে না।

শেয়ার করুন