ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ মে ২০২১, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

বাজেটে কৃষিখাতে ৪০% বরাদ্দ করার দাবিতে বগুড়ায় কৃষক ফ্রন্টের স্মারকলিপি

আপডেট টাইম : মে ৩০, ২০২১ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: আসন্ন জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০% কৃষি খাতে বরাদ্দ ও প্রতি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১টি সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে, প্রতিমণ ধান দাম ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে খোদ কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয় করা, বি.এ.ডি.সি-কে সচল করা, সার, বীজ, কীটনাশকসহ ভেজালমুক্ত কৃষি উপকরণ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করার দাবিতে বগুড়ায় অর্থমন্ত্রী বরাবর কৃষক ফ্রন্টের স্মারকলিপি।

আজ রোববার (৩০ মে ২০২১) সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগেদুপুর ১২ টায় শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন- সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি বাসদ বগুড়া জেলা আহ্ধসঢ়;বায়ক কমরেড এ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, কৃষক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জেলা সংগঠক দেলোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। মোট গ্রামীন শ্রমশক্তির ৬০ ভাগের বেশি নিয়োজিত কৃষিতে। জিডিপির প্রায় ১৬% আসে কৃষি থেকে। অথচ বাজেটে বরাবরি কৃষিখাত থাকে অবহেলিত। কৃষি এবং কৃষক বাঁচাতে আসন্ন জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০% কৃষি খাতে বরাদ্দ ও প্রতি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১টি সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে, প্রতিমণ ধানের দাম ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে খোদ কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয় করা, বি.এ.ডি.সি-কে সচল করা, সার, বীজ, কীটনাশকসহ ভেজালমুক্ত কৃষি উপকরণ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সরবরাহ করা সময়ের দাবি। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবারে বোরো ধানের উৎপাদন খরচ গড়ে ২৬ টাকার উপরে পড়েছে বলে জানিয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছি যে, উৎপাদন খরচের সাথে ৪০% মূল্য সংযোজন করে ধানের দাম নির্ধারণ করতে হবে। এটা না করলে দেশের কৃষি-কৃষক কৃষি কাজ করে টিকে থাকতে পারবে না। ফলে উৎপাদন খরচের সাথে ৪০% মূল্য সংযোজন করলে ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করার জোর দাবি জানান।

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, গত বছরের এই সময়ে খাদ্য মজুদ ছিল ১২ লাখ টন, এ বছর তা তলানীতে নেমে এসে ৩ লাখ টনে ঠেকেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কমপক্ষে ১৫ লাখ টন খাদ্য মজুদ থাকা উচিত। না হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে বাধ্য। সরকারের
ভূল নীতির ফলে একদিকে কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে বাড়তি দামে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছে ভোক্তা সাধারণ। কারণ কৃষক ধান উৎপাদন করে, চাল নয়। আর সরকার চাল বেশি কিনে ধান কম কেনে। এতে সরকার মধ্যসত্ত্বভোগী চাতাল ও মিল মালিকদের মুনাফার
স্বার্থই রক্ষা হয়। তাই কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে কৃষিতে মূল্য সহায়তা দিয়ে ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে কৃষক ও ভোক্তা বাঁচাতে বোরো মৌসুমে প্রতি ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ টন ধান ক্রয় করা এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০% কৃষি খাতে বরাদ্দের দাবি জানান।

শেয়ার করুন