ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ মে ২০২১, ৮:২০ অপরাহ্ণ

পানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ওয়াসা ভবনের সামনে বাসদ এর বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : মে ২৭, ২০২১ ৮:২০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: সম্প্রতি ওয়াসা বোর্ড এর এক ভার্চুয়াল সভায় পানির দাম ৫% বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও গণবিরোধী আখ্যায়িত করে অবিলম্বে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বাসদ নেতৃবৃন্দ।

আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ মে সকাল সাড়ে এগারটায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কাওরান বাজারে ওয়াসা ভবনের সামনে এক মানববন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, শ্রমিক নেতা আবদুর রাজ্জাক, নগর বাসদ নেতা জুলফিকার আলী, খালেকুজ্জামান লিপন ও ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি আল কাদেরী জয়।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে করোনার মহামারীতে সারাদেশের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষসহ মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত মানুষ চরম সংকটে দিনাতিপাত করছে। মানুষ কাজ হারিয়ে আয় রোজগারহীন হয়ে পড়েছে। বিপুল মানুষের আয় কমে গেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানসূহের ব্যয় সংকোচনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে; এ পরিস্থিতিতে পানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মরার উপর খাড়ার ঘা এর সামিল।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমান সরকার গত ১৩ বছরে ১৪ বার পানির দাম বৃদ্ধি করেছে। গত বছরই দুই দফায় একবার ৫% আরেকবার ২৫% দাম বৃদ্ধি করে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েছিল, তারপরও উৎপাদন ব্যয় এর সাথে মূল্যস্ফিতির সমন্বয় করার অজুহাতে এবারে বোর্ডের একাধিক সদস্যের বিরোধীতা সত্ত্বেও এমডির একক ইচ্ছায় এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পানির দাম বৃদ্ধির সাথে সুয়ারেজের দামও সমপরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অথচ ঢাকা শহরের মাত্র ১৫ থেকে ২০% এলাকা সুয়ারেজের আওতায় থাকলেও সব এলাকা থেকে সুয়ারেজের বিল নেয়া হয়। সেবা না দিয়ে বিল নেয়া অযৌক্তিক-অনৈতিক কাজ।

ওয়াসা অজুহাত দেয় তাদের আইনে আছে বছরে ১ বার ৫% দাম বাড়াতে পারবে। কিন্তু আইন থাকলেই কি জনগণের এই সংকটের সময়ও দাম বাড়াতে হবে? নেতৃবৃন্দ এই প্রশ্ন করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পদ্মা (জশলদি) ও ভাকুর্তা প্রকল্পের দুর্নীতিসহ ওয়াসার দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে পানির দাম বৃদ্ধি নয় বরং কমানো সম্ভব। তাছাড়া ওয়াসা গঠিত হয়েছিল একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে, এখন এটা একটা মুনাফালোভি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পারিণত হয়েছে। ওয়াসার জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়ে যায় এ ব্যাপারে টু শব্দ করতে পারেনা কিন্তু দাম বাড়াতে ওস্তাদ; এজন্য মানুষ মনে করে ওয়াসার সেবা দেয়ার মুরোদ নাই দাম বাড়ানোর গোঁসাই। নেতৃবৃন্দ বলেন, কয়েক মাস আগে ঢাকার খালসমূহের দায়িত্ব দুই সিটি কর্পোরেশনকে দেয়া হয়েছে, এতে ওয়াসার ব্যয় অনেক কমে যাবে। তারপরেও কেন পানির দাম বৃদ্ধি করা হলো?

নেতৃবৃন্দ বলেন, জাপানের অর্থায়নে বৃহত্তর মিরপুর, মোহাম্মদপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে কল্যানপুরে রিটেনশন পন্ড বা বড় জলাধার প্রকল্পের ১৭১ একর জমির ১৭০ একরই দখল হয়ে গেছে এব্যাপারে ওয়াসা নিশ্চুপ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ওয়াসার এমডি তাকসিম সাহেব ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। মন্ত্রণালয় তাকে ২০ মার্চ থেকে তিন মাসের ছুটি মঞ্জুর করে প্রকৌশলী আবুল কাশেমকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব অর্পণ করে। কিন্তু তিনি তার ছুটি মার্চ এর পরিবর্তে এপ্রিল থেকে ঘোষণা করে এবং বিদেশে অবস্থান করে ভার্চুয়ালী তিনি সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে নিজে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যা স্বেচ্ছাচারিতার চরম প্রকাশ। এ ঘটনা প্রমাণ করে ওয়াসা রাষ্ট্রীয় বা জনগণের প্রতিষ্ঠান নাকি এটি তাসকিম সাহেবের ব্যক্তিগত পৈত্রিক প্রতিষ্ঠান। কারণ ২০০৯ সাল থেকে ১৩ বছর ধরে ওয়াসা বোর্ড সভাকে পাশ কাটিয়ে তাকে এমডি পদে বহাল রেখেছেন সরকার এজন্যই এরকম ঔদ্ধত্য দেখাতে পারছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ওয়াসার দুর্নীতির বিষবৃক্ষ এমডি তাকসিম, ফলে তাকে অপসারণ না করে ওয়াসাকে জনগণের সেবার প্রতিষ্ঠানে ফিরোনো যাবে না। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ তাকসিমকে অপসারণের দাবি জানান এবং পদ্মা, ভাকুর্তাসহ ওয়াসার মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বছর বছর পানির দাম বাড়ালেও সেবার মান ও গুন বাড়ছে না। উপরন্তু অনেক এলাকায় গরমকালে নিয়মিত পানি সরবরাহ থাকে না পানির জন্য মানুষ হাহাকার করে। অনেক এলাকার পানি পান করা ও ব্যবহারের উপযুক্ত না। পানির সাথে পোকা মাকড়, কেঁচো পাওয়া যায়, অনেক এলাকায় পানি কালো মবিলের মতো। এমনি এক এলাকা জুরাইনের মিজান দ্ইু বছর আগে ওয়াসার পানি নিয়ে এমডিকে সরবত খাওয়াতে গিয়েছিলেন, তার কোন জবাব ওয়াসা কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।

নেতৃবৃন্দ ঢাকা শহরের সব এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি সরবরাহের দাবি জানান এবং মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, ওয়াসা প্রতিদিন ২৫০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে। ৫% দাম বৃদ্ধির ফলে বছরে ৭০ কোটি টাকা বাড়তি জনগণের পকেট থেকে চলে যাবে। এটা কোন মতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাছাড়া জনগণতো বাজেটের সময় একবার ট্যাক্স দিচ্ছে তাহলে পরে কেন পানির দাম দেবে। নদী-পানির দেশ বাংলাদেশে পানিতো বিনা মূল্যে দেয়া দরকার। সমাজাতিন্ত্রক দেশসমূহে পানি বিনামূল্যে নাগরিকদের সরবরাহ করা হতো।

নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে আগামী ১৫ দিন ঢাকা নগরের বিভিন্ন থানায় সমাবেশ-গণসংযোগ এর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আগামী ১৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করেন নেতৃবৃন্দ।

 

শেয়ার করুন