ডেস্ক রিপোর্ট
১১ মে ২০২১, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: অবিলম্বে পোশাক শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণের জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শ্রমিকদের নামে দায়েরকৃত হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্রিয় খরচে শিল্প মালিকদের স্বার্থ রক্ষাকারী বাহিনী ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ বিলুপ্ত করার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের যৌথ আয়োজনে আজ ১১ মে ২০২১, দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, ঢাকা নগর সভাপতি ও বোম্বে সুইটস কোম্পানি লি: শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রতন মিয়া, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক রোখসানা আফরোজ আশা, ঢাকা নগর সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ প্রমুখ।
টঙ্গিতে ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর শিল্প পুলিশের গুলিবর্ষণে ২ জন মারাত্মক আহতসহ ২০ জন শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় তিব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিল্প মালিক আর রাষ্ট্র পরিচালকদের অব্যবস্থাপনা-সিদ্ধান্তহীনতা শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির জন্য দায়ী। শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পাশ কাটাতে গৃহিত সরকারি কৌশল করোনা নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত লক-ডাউনকে মানুষের কাছে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করেছে। আর এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই কারখানাগুলিতে ঈদের সাধারণ ছুটির সাথে অতিরিক্ত ছুটি দেওয়ার জন্য সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলিতেও জেনারেল ডিউটি করানো হয়েছে। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে মিলিত হওয়ার আকাংখা থেকেই শ্রমিকরা বিগত দেড়মাস যাবত বিশ্রাম না নিয়ে কাজ করেছে। উৎপাদন চালিয়ে রাখার জন্য প্রচার করা হয়েছে শ্রমজীবী মানুষের ইমিউনিটি শক্তিশালী তাদের করোনা হয়না। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে ঈদযাত্রায় করোনার বিষয়টি বিবেচনায় ছিলনা। অতিরিক্ত কাজের সময়ের মজুরির কিভাবে ফয়সালা হবে? করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরিবার- পরিজনের সাথে মিলিত হতে ছুটি পাওয়া যাবে কিনা? এই সকল প্রশ্নের ফয়সালা না করে আকষ্মিকভাবে শুধুমাত্র ৩ দিনের ছুটি দেওয়ার ঘোষণা শ্রমিকদের লালিত স্বপ্নে আঘাত করেছে, তাদের ক্ষুদ্ধ করেছে। এই অসন্তোষের দায় মালিক আর সরকারের নীতিনির্ধারকদের। অথচ শ্রমিকদের আকাংখাকে বিবেচনা না করে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর নির্বিচার লাঠিচার্জ আর গুলি চালিয়েছে গাজিপুর শিল্প পুলিশ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মজুরি, ছুটি বা অন্যান্য শ্রম অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি শিল্প সম্পর্কের নিয়মানুসারে মালিক এবং শ্রমিকের দ্বি- পাক্ষিক দরকষাকষির বিষয়। আর রাষ্ট্রিয় সংস্থা হিসাবে পুলিশের দায়িত্ব শিল্প সম্পর্কের দুর্বল পক্ষ শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় সাহায্য করা। ভারসাম্যপূর্ণ স্থিতিশিল শিল্পসম্পর্ক অব্যাহত রাখা। অথচ ২০১০ সালে ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল পুলিশ নামে যাত্রা শুরু করা পুলিশের এই নতুন ইউনিট সাধারণ শ্রমিক আর শ্রমিক নেতাদের হয়রানি-নির্যাতনের মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলন, শ্রমিকের প্রতিবাদি কন্ঠ কে দমন করার দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেছে। কিন্তু শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী, শ্রমিকের পাওনা বেতন-ভাতা আত্মসাতকারী কোন শিল্প মালিককে গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়ার নজির গত ১১ বছরে স্থাপন করতে পারেনি। মালিকদের শোষণ প্রক্রিয়াকে নির্বিগ্ন করতে শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দিতে শ্রমিক আর সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় শিল্প মালিকদের নিরাপত্তা দিতে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশের প্রবর্তন করা হয়েছে।
ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকরা অস্ত্রধারী নয়, ডাকাত নয়, তারা শ্রম দিয়ে উৎপাদন করে মূল্য সৃষ্টি করে আর তৈরী কৃত মূল্যের একটি অংশ মজুরি হিসাবে পেতে চায়। ফলে শিল্প সম্পর্ক পরিচালনায় অস্ত্রধারী পুলিশের কোন প্রয়োজন নেই।
নেতৃবৃন্দ,হামিম গ্রুপের শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণের জন্য দায়িদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, বাঁশখালিতে গুলি করে ৭জন শ্রমিকহত্যার জন্য দায়িদের শাস্তি না হওয়ায় একই ধরণের ঘটনার পুণরাবৃত্তি উৎসাহিত করছে।
নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের দুর্ভোগের জন্য সরকারের সমন্বয়হীনতাকে দায়ি করে বলেন, পত্রিকার ভাষ্য অনুসারে এখনো ২৫ শতাংশ কারখানার মালিকেরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। এই সকল কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করলে যদি কোন অনাকাংখিত পরিবেশ সৃষ্টি হয তার দায় মালিক এবং সরকারকে বহন করতে হবে। নেতৃবৃন্দ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভার-আশুলিয়া অঞ্চলের নেতা আহমেদ জীবন ও আনিসুর রহমানসহ ১৩ জন গার্মেন্টস শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানান।